বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক-কাড়াকাড়ি সুনামগঞ্জ ও শরিয়তপুরে

বিন্দু তালুকদার
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সুনামগঞ্জের ডা. রফিক চৌধুরী না শরিয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলাম এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এই পদ নিয়ে সুনামগঞ্জ ও শরিয়তপুরের দুই নেতার মধ্যে রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ ও শরিয়তপুর দু’জায়গায়ই মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি নিরসনে কোন স্পষ্ট বক্তব্য না দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরির জায়গাটি আরও প্রসারিত হয়েছে। গতকালও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির কয়েক জন নেতার সাথে কথা বলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শরিয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলাম চিকিৎসার কাজে দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ডা. রফিকুল ইসলামের স্বজনরা বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ড্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  তিনি যুবদলেরও কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। নব ঘোষিত বিএনপি’র জাতীয় নিবার্হী কমিটির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক তিনিই। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
দৈনিক সুনামগঞ্জের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. রফিকুল ইসলাম শরীযতপুর জেলা ডামুড্যা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বড় ভাই সাঈদ আহমেদ আসলাম শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং চাচা ফজলুল করিম মিয়া ডামুড্যা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ড্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও  যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। স্থানীয়দের দাবি এলাকার রাজনীতির সঙ্গে ডা. রফিকুল ইসলামের কোন সর্ম্পক নেই।
এদিকে সুনামগঞ্জের ডা. রফিক চৌধুরীও জোর দাবি করে বলেছেন, গত ৭ বছর ধরেই কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দপ্তরে তাঁর নাম ডা. রফিকুল ইসলাম হিসাবে উল্লেখ রয়েছে, এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। তাছাড়া বিএনপির রাজনীতি ও ডাক্তারদের পেশাজীবী সংগঠন ড্যাব গঠনে ছিল তাঁর বিশাল অবদান। শরিয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলাম বয়সে তাঁর চেয়ে অনেক ছোট, তিনি যুবদলের রাজনীতি করেন।
জানা যায়, এক সময়ের ড্যাব নেতা ডা. রফিক চৌধুরী সুনামগঞ্জ-ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর নির্বাচনী এলাকার ২০০৮ সালের বিএনপি’র মনোনয়নে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। পরে বিএনপির বিগত জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। জেলায় বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং তাঁর নিজের উপজেলা ধর্মপাশায় বিএনপির কোন্দলের কারণে সম্প্রতি ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি পদ হারান তিনি। ধর্মপাশায় বিএনপির সভাপতি হন দলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে পরিচিত ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খাঁন। গত শনিবার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে ডা. রফিকুল ইসলামের নাম প্রচার হয়।
শরীয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলামের ভাতিজা ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সৈকত বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ড্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামই সদ্য ঘোষিত বিএনপি’র জাতীয় নিবার্হী কমিটির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের এলাকার কেউ এবিষয়ে দ্বিমত, এমনকি আলোচনা-সমালোচনা করছেন না।’
শরিয়তপুরের জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন,‘আমরা যতদূর জানি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন সুনামগঞ্জের ডা. রফিক চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করছেন এবং বয়সেও তিনি অনেক জ্যেষ্ঠ। আমাদের এলাকার ডা. রফিকুল ইসলাম এলাকায় কোন দিন রাজনীতি করেন নি। গত ৪০ বছরের বিএনপির রাজনীতিতে আমরা তাকে কোন দিন শরিয়তপুরে দেখিনি। তাদের পরিবার থেকে কেউ কেন্দ্রীয় কোন পদ পেলে তার বড় ভাই সাইদ আহমেদ আসলাম সাহেবের পাওয়ার কথা।’
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, আমারতো মনে হয় শরীয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলামই বিএনপি’র সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। সুনামগঞ্জের ভদ্রলোকের নাম ডা. রফিক চৌধুরী। তবে এবিষয়ে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ভাল বলতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে যার নাম গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে, তিনি শরিয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলার ডা. রফিকুল ইসলাম। এই রফিকুল ইসলাম ধর্মপাশার ডা. রফিক চৌধুরী নন। বিএনপি’র সমর্থক দৈনিক পত্রিকা দিনকালেও ডা. রফিকুল ইসলামের পরিচয় শরিয়তপুরের হিসাবে উল্লেখ রয়েছে’।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা. রফিক চৌধুরী বলেন,‘নাছির উদ্দিন চৌধুরী শরিয়তপুরের বললেই হবে না কি? গত ৭ বছর ধরে বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে ডা. রফিকুল ইসলাম নামেই আমার চিঠি আসে। আমি ৭ বছর নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলাম। দলের পক্ষে কাজ করেছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করে এই পদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে এখন যেহেতু একটি পদ নিয়ে দুইজন দাবিদার সৃষ্টি হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়াই এর সমাধান করবেন। আমি আশা করি সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বিষয়টির সুরাহা হবে। বেগম খালেদা জিয়া যদি আমাকে এই পদের দায়িত্ব দেন তাহলে শরিয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলামকে অন্য পদ দিবেন। আর যদি তাকেই এই পদে দেয়া হয় তাহলে আমাকে নিশ্চয়ই অন্য কোন পদে মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সুনামগঞ্জের ডা. রফিক চৌধুরী না শরিয়তপুরের ডা. রফিকুল ইসলাম এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ এই পদের প্রকৃত নেতার নাম জানতে চায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্ট তথ্য জানতে চাই। আমি বুধবার বিকালে কেন্দ্রের দপ্তরে ফোন করেছিলাম। আমাকে বলা হয়েছে পরে জানানো হবে। ’
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান বলেন,‘এই নাম নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে, যারা কমিটি করেছেন, তারাই এই বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন’।
গতকাল বুধবার বিকালে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এ প্রতিবেদককে বলেন,‘ম্যাডামের মামলায় আমি এখন কোর্টে আছি, এখন কথা বলা সম্ভব নয়, পরে কথা বলেন।’