বিদেশ যাওয়া হলো না সালমানের

জগন্নাথপুর অফিস
সৌদিআরবে যাওয়ার জন্য প্রস্তুুতি নিচ্ছিল সালমান খান (২৭)। কিন্তু বিদেশ আর যাওয়া হলো না তাঁর। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুর এলাকায় এনা পরিবহন ও লন্ডন এক্সপ্রেসের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সে নিহত হয়েছে। বিকালে জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের মিঠাভরাং গগ্রামের বাড়িতে মরদেহ এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সালমানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিকালেই সালমানের জানাজা নামাজ শেষে গ্রামের পঞ্চায়িতী কবরস্থানে থাকে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের মিঠাভরাং গ্রামের আলিউর রহমান খানের ছেলে সালমান খান প্রায় ৩ বছর ধরে পরিবহনে সুপারভাইজার পদে নিয়োজিত ছিল। শুক্রবার ভোরে এনা পরিবহন বাসে সিলেট থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল সালমান খান। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর এলাকায় বাসটি পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা অপর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সালমানসহ আটজন নিহত হন। এঘটনায় আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত সালমান খানের চাচাতো ভাই আব্দুস সামাদ খান বলেন, এনা পরিবহনে আমার চাচাতো ভাই সালমান কাজ করতো। সম্প্রতি সৌদিআরবে যাওয়ার জন্য তাঁর প্রস্তুুতি চলছিল। সালমানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের লোকজনসহ আমরা শোকে মুহ্যমান। বিকেলে গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুর এলাকায় এনা পরিবহন ও লন্ডন এক্সপ্রেসের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে আট জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতরা হলেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. আল মাহমুদ (৪০), এনা পরিবহনের বাসটির চালক ও বড়লেখা ওসমানীনগরের মানিক মিয়ার ছেলে মঞ্জুর আলী (৩৮), চালকের সহকারী ধরগাও ওসমানীনগরের জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০), সরাইল ব্রাহ্মণবাড়ির আলী হায়দারের ছেলে নুরুল আমিন, ঢাকার ওয়ারীর আব্দুল মালেকের ছেলে স্বাধীন আহমদ সাগর, লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসের সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের অলিউর রহমানের ছেলে সালমান, সিলেটের আখালিয়ার শাহ কামাল এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার রহিমা (৪৫)।
আহতদের যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- কামরুজ্জামান, রেজাউল করিম, শামীম আহমদ, আলাউদ্দীন, শেখ রুহেল, আইয়ান, শান্তিলাল।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লন্ডন এক্সপ্রেসের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকামুখী এনা পরিবহনের বাসটির সকাল ৭টার দিকে রশিদপুর এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুলিশ যাওয়ার আগেই হতাহতদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বরাত দিয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফুল্লাহ তাহের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিন জন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এছাড়া অপর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।