বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসে দুর্ঘটনা অনভিপ্রেত

তাহিরপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে ছয় ছাত্রী আহত হওয়ার মতো একটি অনভিপ্রেত ও ভীতিকর সংবাদ পাওয়া গেছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, রবিবার ওই বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় বসা নবম ও দশম শ্রেণির ৬ ছাত্রী আহত হয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভবনটি ৩০ বছরের পুরনো ছিলো। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক আহত ছাত্রীদের অবস্থা গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার তথ্য দিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার সংবাদ দেখে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উদ্রেক হয়। একটি পাকা ভবন যেটি কর্তৃপক্ষের দাবি মতে ত্রিশ বছর আগে নির্মিত হয়েছিলো, সেই ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার মতো অবস্থায় যাবে কেন? বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তো নিয়মিত ভবনগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা। এছাড়া ছাদ নিয়মিত পরিস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখা হলে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কথা নয়। অবশ্য সরকারি কাজ আর ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে মানের অনেক ফারাক থাকে বলে আমরা জানি। এই দুর্ঘটনাটি হয়তো সামান্যের উপর দিয়ে গেছে। এটি তো আরও গুরুতর হতে পারত। সংবাদের সাথে প্রকাশিত ছবি থেকে বুঝা যায়, ভবনের অনেক জায়গায় কংক্রিটের আস্তরণ সরে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ছাদ ড্যাম্প হয়ে গিয়েছিলো। এরকম অবস্থা একদিনে হয়নি। ভবনের নির্মাণ কাজের মান খারাপ ছিলো বলেই এই অবস্থা হয়েছে। শুরুতেই ব্যবস্থা নেয়া হলে দুর্ঘটনা ঘটার বাস্তবতা দেখতে হত না। যে ভবনে প্রতিদিন কয়েক শ’ ছাত্রী ক্লাশ করেন সেই ভবনের ঝুঁকি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখা উচিৎ ছিলো। যেমন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন তেমনি নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তরগুলোও দায়িত্বশীলতার পরিচয় রাখতে পারেননি।
ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে ক্লাস পরিচালনা না করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা হ্রাস পাবে যা শিক্ষা কার্যক্রমকে বিঘিœত করবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি উপজেলার একটি প্রধান নারী শিক্ষায়তন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার নারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের যে সুযোগ পেয়েছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নারী শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিকে সক্ষম রাখা সকলের দায়িত্ব।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এখনও বহু জরাজীর্ণ ভবনে এরকমভাবে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে যেমন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকেন তেমনি তাদের অভিভাবকরা সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। কাজের মান যাতে সর্বাবস্থায় উত্তম হয় সে চেষ্টা থাকাও বাঞ্ছনীয়। নির্মাণের বিশ/ত্রিশ বছরের ভিতরই যদি ভবনের মূল কাঠামো নষ্ট হতে থাকে তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যথাযথ মান বজায় রেখে নির্মাণ কাজ করা হয়নি। সরকারি কাজে এই ধরনের অতি মুনাফাবাজি ঠিকাদারি প্রথার অবসান ঘটা কাম্য। এই জায়গায় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্মিত ভবনের একটি স্থায়িত্বকাল নির্ধারিত থাকে। এর আগে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারককারীদের জবাবদিহি করার সংস্কৃতি চালু হওয়া কাম্য। নতুবা এইভাবে ভবনের ছাদ ধসে পড়বে, দেয়াল ভেঙে পড়বে, দরোজা-জানালা খুলে খুলে পড়বে আর সবচাইতে বিপন্ন অবস্থা তৈরি হবে ভবনের নীচে যাদের থাকতে হয় তাদের। মুনাফার চাইতেও যে মানুষের জীবন অমূল্য সেই মানবিকতা বোধের জাগরণ দরকার।