শাল্লায় ১৪ বাঁধ কেটে হাওরে ঢোকানো হচ্ছে পানি

পি সি দাস, শাল্লা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ জেলার ভাটির উপজেলা শাল্লার হাওরগুলোতে নেই পানি। ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে হাওরে প্রবেশ করতে পারছে না নদীর পানি। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং উজানের পানি দ্রুত নামানোর জন্য হাওর রক্ষা বাঁধ কেটে পানি ঢোকানো হচ্ছে। এছাড়াও যে সকল হাওরে সুইসগেইট রয়েছে সেগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ৬টি বড় হাওরে পানি প্রবেশের জন্য ১৪টি বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব’র উপস্থিতিতে ছায়ার হাওরের মাউতি বাঁধ কাটার মধ্য দিয়ে ১৪টি বাঁধ কাটা সম্পন্ন হয়।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ দুলাল বললেন, আষাঢ় মাসে গরু হাওরে ঘাস খাচ্ছে, এমন বিচিত্র দৃশ্য আমি আগে দেখিনি। প্রশাসনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেল। এছাড়াও উজানের পানি দ্রুত কমে যাবে, বন্যার আশংঙ্কা আর থাকবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
ছায়ার হাওরের পশ্চিমপাড়ের বড় কৃষক হাবিবুর রহমান হবিব বলেন, আষাঢ় মাসেও হেমন্তের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, এটি শুভনীয় নয়। হাওরে সময় মত পানি প্রবেশ না হলে আগামী বোরো ফসল করা কঠিন হবে। বাঁধ কেটে হাওরে পানি প্রবেশ করানোর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে ধন্যবাদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, বর্ষাকালে হাওরে পানি নেই, আবার উজানে বন্যা হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে না দিলে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারছিলো না। জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এবং আগামী বোরো ফসলে কথা চিন্তা করে জরুরি সভা করে বাঁধ কেটে হাওরে পানি প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা উপজেলার ৬টি হাওরের ১৪ টি বাঁধ কেটে দিয়েছি। এতে উজানের পানিও দ্রুত নেমে যাবে।