বিনা ধান-১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের উদ্যোগে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প জীবনকালীন বিনা ধান-১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বুড়িস্থল এলাকায় এই ধানের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়।
বিনা ধান-১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে বিনা’র মহা পরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন টিপু, বিনা উপকেন্দ্র সুনামগঞ্জের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব এবং বিভিন্ন এলাকার কৃষক।
বিনা উপকেন্দ্র সুনামগঞ্জের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব বলেন, বিনা ধান-১৯ একটি স্বল্প জীবনকালীন আউশ মওসুমের জাত। এ জাতটি মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টি না হলেও সরাসরি বপন করা যায়। এই ধান উৎপাদনে সময় লাগে কম, খরচও হয় কম। ধান উৎপাদনে লাভ হয় বেশি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, বিনা ধান-১৯ এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে সুনামগঞ্জে। বিনার উদ্ভাবিত জাতগুলি স্বল্প মেয়াদী। এই ধানের চাষ ১ শত থেকে ১ শত ৫ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে থাকি, বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হয়।
বিনা’র মহা পরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, বিনা ধান-১৯ খরা সহিষ্ণু। নেরিকা-১০ জাত থেকে এই জাত উদ্ভাবিত হয়। খরার সময় গাছের বাড়ন না হলেও পরিবেশ অনুকূলে আসলে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলন দিতে সক্ষম হয়। আউশ ও আমন মওসুমে চাষ উপযোগী এই বিনা-১৯ জাতের ধান। কৃষকেরা বোরো ধান কাটার পর মধ্যখানে জমি পতিত থাকে। পরে আবার রূপা আমন ধানের চাষ করেন। এই মধ্যবর্তী সময়ে বিনা-১৯ ধানের চাষ করা সম্ভব।