সু.খবর রিপোর্ট
জগন্নাথপুর
প্রথম দিন জগন্নাথপুরে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা নিয়েছেন ৬০ জন। রবিবার দুপুর ১২টায় প্রথম টিকা নেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমদ। এরপর টিকা নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত, জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন, মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহুবুবুল হক শেরিন, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম আজাদ সহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, নার্স প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, খুবই ভালো লাগছে টিকা দিতে পেরে। কেউ টিকা নিতে যাতে ভয় না পান সেই আমি প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে প্রথম টিকা নিলাম। করোনার মহামারি থেকে সুরক্ষায় টিকা দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে উপজেলায় ৮ হাজার ৮শ’ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। ৪ হাজার ৪শ’ জনকে এই ভ্যাকসিন দুইবারে দেয়া হবে। প্রথম টিকা দেওয়ার ২৮ দিনের পর দ্বিতীয় টিকা দেওয়ার মাধ্যমে করোনা ডোজ প্রদান সম্পন্ন হবে। তবে পর্যাক্রমে আরও ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইটি টিকাদান টিমের মাধ্যমে সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর জানান, স্বর্ত:স্ফূতভাবে মানুষ টিকা নিয়েছে। কারও কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। জীবন সুরক্ষায় এই টিকা সবার জন্য দরকার।
তিনি জানান, প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে দুইজন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও চারজন করে স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। এরমধ্যে ১৩০ জন নিবন্ধন করেছেন। প্রথমদিন ৬০ জন টিকাগ্রহণ করেছেন।
উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ এখনো করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন পায়নি। আমাদের মাননীয় প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় প্রথমদিকেই আমরা ভ্যাকসিন পেয়েছি। মহামারি করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষার জন্য টিকা একান্তই প্রয়োজন। তাই আমি নিজেও টিকা নিয়েছি।
বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুরে করোনা প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন ৫৭ জন। সকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বেনজির আহমেদ মানিক, স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল বাশার মোহাম্মদ ওসমান হায়দার মজুমদার, বিআরডিবি কর্মকর্তা সৌরভ ভূষণ দে, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজ্জত আলী খান, উপজেলা প. প. কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদির, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় ৫,২০০ ডোজ টিকা ২,৬০০ জনকে প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় ডোজ ২৮ দিন পরে প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তাহিরপুর
তাহিরপুরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিগণ ভ্যাকসিন নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ আমজাদ হোসেন, তাহিরপুর ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ তরফদার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ সভাপতি বাবরুল হাসান বাবলু, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান তারা, আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম আখঞ্জি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সুষেন বর্মন, সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন ভীপক, সাংবাদিক রমেন্দ্র নারায়ন বৈশাখ, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মাসুক মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল বাশার, ছাত্রলীগ নেতা ধীমান চন্দ প্রমুখ।
দোয়ারাবাজার
সকাল ১০টায় উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীরপ্রতীক প্রথম করোনা টিকা নেন। এরপরই টিকা গ্রহণ করেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান মাহমুদ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৩০ জন সম্মুখসারির যোদ্ধা টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারি চাকুরীজীবী, ডাক্তার ও অন্যান্য সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।
ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা, উপজেলা প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজির আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আল আমিন, ডা. সিফাত আরা শারমিন, মুক্তিযোদ্ধা মো. উস্তার আলী, কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. সফিক মিয়া, ডা. ইলিয়াছ, অফিস প্রধান সহকারী মো. হানিফ মিয়া, জয়নাল আবেদীন, ছানোয়াহ হোসেন প্রমুখ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
সকাল ৯টায় উপজেলার পাগলা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র) দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেনের টিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর টিকা গ্রহণ করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী, সাংবাদিক এম এ কাশেম চৌধুরী।
উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানা যায়, ৭৭ জন সম্মুখসারির যোদ্ধা টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারি চাকুরীজীবী, ডাক্তার ও অন্যান্য সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরাও আছেন।
ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন, মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহমেদ ফয়েজ, ডা. জ্যোথি দাশ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিনয় ভূষণ চক্রবর্তী, পাগলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারি হুমায়ুন কবির, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নওশাদ মিয়া ও সহ-স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাসুক আহমদ, উপজেলা প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম অমিত ও যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
দিরাই
বেলা ১১টায় দিরাই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মিহির রঞ্জন দাস কে প্রথম টিকাদানের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান মামুন, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ^জিৎ রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মনি রানী দাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় প্রমুখ।
কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে ১০৮ জন নিবন্ধন করেছেন জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মনি রানী দাস জানান, দিরাই উপজেলায় ৪ হাজার করোনার ভ্যাকসিন এসে পৌঁছেছে।
শাল্লা
শাল্লায় সকাল ১০টায় প্রথম দিনে ৩০ জন টিকা নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা গ্রহণে শুরুতেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তার টিকা গ্রহণ করেন। পরে পর্যায়ক্রমে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মুক্তাদির হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা মোর্শেদা, ডা. নূরুল হুদা মজুমদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির খান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সুপার বসুদেব দাস, উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিভুতোষ চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার জগন্নাথ রায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ টিকা গ্রহণ করেন।
- তাহিরপুরে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল
- সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সভা


