স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরে বোর ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিয়ে হাওর এলাকার জনমনে আতংক বিরাজ করছে। উপজেলার বৃহৎ করচার হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
সোমবার উপজেলা সদরের করচার হাওরে কৃষ্ণনগর গ্রামের সুনীল বর্মন ওরফে মন্টু বর্মনের বোর জমি ধান কাটা হয়। ধান কাটা শ্রমিক দল নেতা (বেপারী) শামসুল ইসলাম বলেন, আমরা আজ প্রথম মন্টু বাবুর ধান কাটছি। ফসল খুব ভালো হয়েছে। করোনা ভাইরাস আতংকে আমরা সবাই মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব রেখে ধান কাটছি।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে কৃষকদের উৎসাহিত করার লক্ষে সোমবার মন্টু বর্মনের জমিতে ধান ধান কাটার শ্রমিকদেরকে কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাশ মাস্ক, সাবান ও গামছা বিতরণ করেন। এসময় তিনি আতংকিত না হয়ে দ্রুত হাওরের ধান কাটার পরামর্শ দেন।
কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাশ বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। আজ হাওরের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।
কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় হাওরে ভালো ফলন হয়েছে। আগামী এক সাপ্তাহ মধ্যে বৈশাখি ধান কাটার ধুম লেগে যাবে। তবে অনেক কৃষকরা করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকে রয়েছেন। শ্রমিক সংকট দেখা দিবে কি-না এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।
হাওর পারের রাধানগর গ্রামের কৃষক আঃ হেকিম বলেন, অনেক কষ্ট ও খরচ করে বোর জমি চাষাবাদ করেছি। আবহাওয়া যদি ভালো থাকে এবং শ্রমিক সংকট না হয়, তবে আমরা ভালো ফসল পারার আশা রাখি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংক নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধান কাটা শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব রেখে ধান কাটতে হবে। তিনি এসময় দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দেন। যে কোন সমস্যা দেখা দিলে প্রসাশনকে অবহিত করার জন্যও কৃষকদের প্রতি আহব্বান জানান।
চলতি বছর বৃহৎ করচার হাওর, আঙ্গারুলী হাওর সহ মোট ২৬টি পিআইসির মাধ্যমে পাউবোর ফসল রক্ষা হাওর বাঁধ হয়েছে। বাঁধের কাজ যথা সময়ে হলেও সম্পন্ন হলেও এখন তা রক্ষনাবেক্ষণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে কৃষক সহ অনেকেই মনে করেন। করোনা ভাইরাসের আতংকে বাঁধের কাজে কিছুটা থমকে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন অনেকেই। কৃষকরা বাঁধ সুরক্ষার জন্য এবং বিভিন্ন ক্লোজারগুলো সাবক্ষণিক নজরদারি করার জন্য পাউবো ও পিআইসি প্রতি দাবি জানান।
পাউবো দায়িত্বপ্রাপ্ত ও উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. মনসুর রহমান বলেন, বাঁধের প্রতি আমাদের সার্বক্ষণিক নজন দারি রয়েছে। টুকটাক যে, কাজ গুলো বাকি রয়েছে, তা চলমান রয়েছে। হাওরে ধান পাকছে এবং কিছু ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করি কৃষকরা ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
- অতিরিক্ত দামে নিত্যপণ্য বিক্রি, জগন্নাথপুরে দোকানিকে অর্থদণ্ড
- জগন্নাথপুরে ৮৬০ জন কৃষককে আউশ প্রণোদনা


