বিশ্বম্ভরপুরের আঙ্গরুলী হাওরে পানি- সংকটে বোরো ধান চাষাবাদ ব্যাহত

সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গারুলী হাওর পাড়ের কৃষকেরা পার্শ্ববর্তী নদী, খাল ও বিলগুলো পাহাড়ী ঢলে ভেসে আসা বালি ও পলি মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বোরো, ইরি ধান রোপণে পানির সংকটে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন কৃষকরা। পানি থাকায় অনেক জমি অনাবাদি থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, আঙ্গারুলী সনার হাওরের বোরো, ইরি ফসল কাটার আগ মুহূর্তে পাহাড়ী ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি থেকে ফসল রক্ষার্থে হাওরের উত্তর দিকে মিছাখালি নামক স্থানে দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে ফসল রক্ষা হয়েছে, কিন্তু ফসল উৎপাদনে পানি সংকটের স্থায়ী কোন সমাধান এখনো হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় থেকে নেমে আসা পলি ও বালি মাটিতে হাওর সংলগ্ন এলাকার জাদুকাটা নদী, জামের তলা বিল, দিঘা বিল ও আঙ্গারুলী বিল ভরাট হয়ে গিয়ে কোন কোন স্থানে বালু চরে পরিণত হয়েছে। নদী ও বিলগুলোতে পানি ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে কৃষকেরা অপরাগ হয়ে নিজ নিজ জমিতে ছোট ছোট অগভীর       
নলকূপ বসিয়ে চাষাবাদ করছেন।
শক্তিয়ারখলা গ্রামের মহরম আলী জানান, জামেরতলা বিল, চাতল বিল, দিঘা বিল ও জাদুকাটা নদী বর্ষায় পাহাড়ী ঢলে পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের শক্তিয়ারখলা, মধুপুর, দূর্গাপুর, জগন্নাথপুর, কিত্তারহাটি ও বালিজুলী এলাকার অনেক বোরো জমি চাষাবাদে পানি সংকটে পড়েছে। কৃষি কাজ ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই তাই নিজস্ব উদ্যোগে অনেক টাকা খরচ করে অগভীর নলকূপ বসিয়ে বোর ধান চাষাবাদ করছি। এ পদ্ধতিতে ১ কেয়ার (৩০ শতক) জমি চাষাবাদ করতে ৫/৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বছর ভাল হলে কোন রকম আসল টাকার ধান পাওয়া যায়। অন্যথায় ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সারা বছর আফসোস করতে হয়।
দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সাহেব আলী জানান, ২০/৩০ বছর আগে আঙ্গারুলী হাওরে বোরো ধান চাষাবাদ করতে পানি সেচ বাবদ কোন টাকাই খরচ হতো না। প্রতি বছর অগ্রাহায়ন মাসে পার্শ্ববর্তী নদী ও বিল গুলোর পাড় সামান্য বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে রেখে সমস্ত হাওড়ের বোর জমিগুলো চাষাবাদ করা হতো। বর্তমানে ঐসমস্ত নদী ও বিল ভরাট হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়ে পানি সংকটে ভোগতে হয়েছে। মরা জাদুকাটা নদী, জামের তলা বিল, দিঘা বিল, আঙ্গারুলী বিল সরকারি ভাবে খনন পূর্বক অথবা গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তড়িৎ প্রয়োজনীয় নিতে একালাবাসী জোর দাবী জানাচ্ছে।