এ পর্যন্ত জেলায় ঘর পেয়েছেন ৭০৩৪টি পরিবার
বিশম্ভরপুর প্রতিনিধি
জেলার প্রথম উপজেলা হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের সাতটি জেলা ও ১৫৯টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বাড়ি প্রাপ্তদের পরিবর্তিত জীবনযাত্রার উপর একটি ভিডিও-প্রামণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেউ ঠিকানা ছাড়া থাকবে না। আমরা তাদের শুধু ঘরই দিইনি, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। তাদের জীবিকার জন্য ঋণও দিয়েছি। তারা এখন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা ঘোষণা করেছিলেন যে, একজন ব্যক্তি ১০০ বিঘা জমির অধিকারী হতে পারবে এবং এর অতিরিক্ত পরিমাণ জমি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
এদিকে ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ গণমিলনায়তনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পূর্বে উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদিউর রহিম জাদিদ।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিল্পী রানি মোদকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজদ আলী খান, থানার তদন্ত অফিসার গোলাম কিবরিয়া হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বেনজির আহমদ মানিক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আফতাব উদ্দিন, সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী তপন, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, উপকারভোগী প্রতিবন্ধী তাজুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম।
শেষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল, পর্চা বিতরণ করা হয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় মোট ৭৩১টি পরিবারের মধ্যে ভূমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ জেলায় ৩য় পর্যায়ে ৩৯১টি এবং ৪র্থ পর্যায়ের ৮২২টি ঘর সহ মোট ১২১৩টি পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্তসহ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৮৪৪৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ৭০৩৪টি পরিবার জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে।


