আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রচন্ড খরায় ফসলি জমি ফেটে যাচ্ছিল। লালছে (জ্বলে) হয়ে যাচ্ছে সবুজ চারা। এই অবস্থায় বৃষ্টির জন্য চলছিল হাহাকার। অবশেষে গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বুধবার হাসি মুখে এসব কথা বলছিলেন জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরের ভুরাখালি গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান। বললেন, বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হওয়াতে ভয়ে বুক কেঁপে ওঠছিল। তবে সামন্য শিলা হওয়াতে ফসলের ক্ষতি হবে না।
তিনি বলেন, বৃষ্টির জন্য মাসখানিক ধরে কৃষকের মধ্যে হাহাকার চলছিল। কারণ বোরো ফসলের চারা থেকে ধান বের হওয়ার সময় এখন। আর জন্য বৃষ্টি খুবই প্রয়োজন। গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি কৃষকরা খুশি। আশা করছি, সপ্তাহ, দশ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাবে। এবার নলুয়া হাওরের তিনি ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন বলে জানিছেন।
বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক সাইদুর রহমানের মতো আনন্দ ভাসছে জগন্নাথপুরের লাখো কৃষক পরিবার। স্থানীয় কৃষকরা, উপজেলার কৃষকেরা বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এখন বোরোর সবুজ চারা থেকে ধান বের হওয়ার উপযুক্ত সময়। বৃষ্টি না হওয়ায় খরায় অনেক সবুজ চারা লালচে হয়ে (জ্বলে) যাচ্ছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে বৃষ্টির জন্য কৃষকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে দেখা মেলে সেই কাঙ্খিত বৃষ্টির। এতে কৃষকেরা খুশি।
এদিকে বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরলেও ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। গতরাতের বৃষ্টিতে নলুয়া হাওরের পোল্ডার ২ এর ২৯ নম্বর প্রকল্পের ইসমাইলচক এলাকায় কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বালু মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধের কাজ করা হয়েছে যেসব বাঁধে, সেসব প্রকল্পের কিছু কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, যেসব বেড়িবাঁধে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। হাওর ঘুরে বড় ধরনের কোনো ফাটল কিংবা ধসের ঘটনা চোখে পড়েনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এই মুহুর্তে বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন ছিল। এই বৃষ্টির ফলে চারা থেকে ধান বের হবে। এবার জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, এবার জগন্নাথপুরে ৩৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক। বৃষ্টিতে বোরো ধান ও বেড়িবাঁধের ভালো হয়েছে। বাঁধের মাটি শক্ত হয়ে বসবে। বৃষ্টিতে বাঁধের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।


