বৃষ্টির পানিতে হাওরে জলাবদ্ধতা

বিন্দু তালুকদার
বোরো মৌসুমে বৃষ্টি হলেও কৃষকের সমস্যা, আবার না হলেও সমস্যা। তেমনি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার কারণে জেলার জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার পাঁচ গ্রামের কৃষকদের বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছেন এলাকার মাহমুদপুর, আছানপুর, দুর্গাপুর, মন্দাকান্দি ও পৈন্ডুপ গ্রামের কৃষকদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফসল রক্ষা বেড়ি বাঁধ দেওয়ার ফলে হাওরের পানি নিস্কাশন না হওয়ায় সম্প্রতি বৃহত্তর হালীর হাওরের (কেচুইরার হাওরের মাঝ অংশে) এই অবস্থা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুত পানি নিস্কাশন করা সম্ভব না হলে ওই হাওরের প্রায় হাজার একর জমির মধ্যে ৫ গ্রামের শত শত কৃষকের কয়েকশ’ একর জমির ফলানো ধান নষ্ট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।  
কেচুইরার হাওরের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানিয়েছেন ইতোমধ্যে কেচুইরার হাওরের প্রায় ২০০ একর জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উজানের পানি নিচে নামায় এর পরিমাণ দিন দিনে বৃদ্ধি হচ্ছে। ফসলের এই দুর্যোগে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে কাছে পাওয়া যাচ্ছে না এলাকার কৃষকরা। ফসল রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাওরের ফসল রক্ষা ও পানি নিস্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান। বুধবার দুপুরে তিনি মাহমুদপুর গ্রামের খালের কাছে একটি পাওয়ার পাম্প বসিয়ে বৌলাই নদীতে পানি নিস্কাশন শুরু করেছেন। তবে একটি পাম্প দিয়ে কোনভাবেই হাওরের পানি নিস্কাশন করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে।
বেহেলী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন,‘মেঘের পাইন্নে আমরার ধান প্রায় তলাইয়া যাওয়ার উপক্রম। আর ইঞ্চি দেড়েক পানি অইলে এই আওরের মাইঝের সব ধান পানির নিচে তলাইয়া যাইব। আমার প্রায় ১ আল (১২ কেদার) খেত নষ্ট হওয়ার পথে। কেউ হাওরের পানি কমাইবার লাগি কোন উদ্যোগ নেয় না। মশিউর মেম্বার সাব নিজের পকেটের টেকা দিয়ে একটা পাম্প লাগাইছে।’
তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপির পৈন্ডুপ গ্রামের    কৃষক সামছুর রহমান বলেন,‘ এবার আমি ৫ আল জমি করছি, এর মধ্যে কেচুইরার হাওরের প্রায় ২০ কিয়ার জমিন পানির তলে। পানি আর কয়েকদিন থাকলে সব নষ্ট অইয়া যাইব। আমার মত আরো অনেকের খেত পানির তলে। মশিউর মেম্বার সাব একটা মেশিন লাইছে, একটা মেশিন দিয়া পানি হুকাইলে অনেক দিন লাগব।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন,‘ বৃষ্টির পানি জমে বেশ কিছুদিন ধরে হাওরের এই অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জমে থাকা পানি এখনই না সেচা হলে এবং আরো বৃষ্টি হলে ফসল তলিয়ে ও পচে নষ্ট হয়ে যাবে। জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কিন্তু পানি নিস্কাশনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। কৃষকদের অনুরোধে ও হাওরের ফসল রক্ষায় নিজেই পাম্প বসিয়েছি। তবে একাধিক মেশিন না হলে দ্রুত পানি নিস্কাশন করা সম্ভব হবে না। ’
এ ব্যাপারে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদারের সাথে কথা বলতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।  
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাফায়াত আহমদ সিদ্দিকি বলেন,‘বৃষ্টির পানিতে হাওরে জলাবদ্ধতার বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ফসল নষ্ট হোক আমরা সেটা চাই না, কিন্তু পানি নিস্কাশনে আমরা কিছু করতে পারছি না। কারণ আমাদের কোন নিজস্ব পাম্প নেই। উপজেলা পরিষদের পাম্প রয়েছে। এই বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানালে ভাল হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও সাহেব ইচ্ছে করলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারেন।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘ হালীর হাওরের এক অংশে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। কৃষককের বোরো ফসল কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া যাবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’