বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই-শাল্লা উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিভক্তি বিরোধীরা (স্বতন্ত্র প্রার্থী) কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। বৃহস্পতিবার স্বতন্ত্র প্রার্থী কুয়েত প্রবাসী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের প্রথম নির্বাচনী প্রচার সভা ও শো-ডাউনেও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মীকে দেখে এমন কথা বলেছেন দিরাইয়ের বিশিষ্টজনেরা।
দিরাই ডিগ্রি কলেজের অব. অধ্যক্ষ বর্তমানে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মিহির কান্তি দাস বলেন,‘প্রয়াত জাতীয় নেতা সামাদ আজাদ এবং সুরঞ্জিত কেন্দ্রীক দিরাই-শাল্লার রাজনীতিতে বহুদিনের যে গ্রুপিং, এটি এখনো একেবারে শেষ হয়নি। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বিরোধী বলয়ের এখনকার নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। এই উপনির্বাচনেও এই বলয়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা রহস্যজনক।’
দিরাই শহরের একজন প্রবীণ সংস্কৃতিকর্মী (নাম প্রকাশ করতে চাননি) বললেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এবং দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিনের সঙ্গে থাকেন এমন অনেক আওয়ামী লীগ কর্মীকেই বৃহস্পতিবার স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের সঙ্গে দেখা গেছে। এর আগে গত শনিবার ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের সিলেট শহরের তপোবন আবাসিক এলাকার বাড়িতে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী, গত ইউপি নির্বাচনে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হুমায়ুন রশীদ লাভলু, যুবলীগ নেতা মারফত আলী, মকসুদ আলম, একরার হোসেন, পারুল মিয়া, বিএনপি নেতা মেরাজ মিয়া ও ভুট্টো মিয়া, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জুয়েল, দুদু মিয়া, জ্যোতিষ রায়, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, হারুন মিয়া প্রমুখ বৈঠক করেছেন।
দিরাই-শাল্লা উপনির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের পর বৃহস্পতিবারই প্রথম প্রকাশ্য প্রচারণায় নামেন ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন। মোটর সাইকেল শো-ডাউন করে দিরাই শহরের থানা রোডে এসে নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় মিলাদ, দোয়া মাহ্ফিল ও আলোচনা সভা হয়। এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দিরাই আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা আলতাব উদ্দিন।
বুধবার রাতেও ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের দিরাই শহরতলির শরিফপুরের বাড়িতে আওয়ামী লীগের আলতাব উদ্দিন বলয়ের অনেকেই ছায়েদ আলী’র সঙ্গে দেখা করেন এবং বৈঠকও করেন।
ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের সঙ্গে এসব বৈঠক ও বৃহস্পতিবারের শো-ডাউনের বিষয়ে দিরাইয়ের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরী (স্থানীয় রাজনীতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত) বলেন,‘দিরাই-শাল্লায় ভোট বিপ্লব হবে। সুরঞ্জিত সেন আর জয়া সেন এক কথা নয়। আওয়ামী লীগকে দিরাই-শাল্লায় বিতর্কিত করেছে যারা, তারা জয়া সেনকে ঘিরে রেখেছে। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের প্রচারণায় এখনো নামিনি। তাঁর (ছায়েদ আলী’র) সঙ্গে আমাদের অনেকের যোগাযোগ রয়েছে। আমার কেন্দ্রের অপেক্ষায় আছি। ২২ তারিখের পর সিদ্ধান্ত নেব কী করবো।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন বলেন,‘বৃহস্পতিবার ছায়েদ আলী’র নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের সময় অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম। তাঁর সমর্থকরা বলেছে অনুষ্ঠানে আমি সভাপতি, আমি বলেছি সভাপতি’র বিষয় নয়, কার্যালয় উদ্বোধনে সভাপতি লাগে না। অফিস উদ্বোধনের সভায় ছায়েদ আলী একাই বক্তব্য দিয়েছেন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘নির্বাচন আসলে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকে। যারা আদর্শে বিশ্বাস করে তারা নৌকার বিরুদ্ধে যাবে না। গত শনিবার ছায়েদ আলী’র সঙ্গে যারা প্রচারণায় ছিল, তাদের সকলকে আমি বলে দিয়েছি নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে। আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, আমার অবহেলার কারণে দিরাই-শাল্লায় নৌকা পরাজিত হবে না। দু’এক দিনের মধ্যেই অন্যান্যদের নিয়ে আমি দিরাইয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেব।’


