ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় সরস্বতী পূজা উদযাপিত

স্টাফ রিপোর্টার
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বুধবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বাণী অর্চনা, বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। বিদ্যাদেবীর কৃপালাভের আশায় সারা জেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পূজা মন্ডপ এবং ঘরে ঘরে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছিল পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা। উৎসবকে ঘিরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিল ধর্মীয় আমেজ। দেবীর সামনে ‘হাতে খড়ি’ দিয়ে ছোট শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা হয়।
প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর আবাহন করা হয়। ঢাক-ঢোল-কাঁসর আর শঙ্খধ্বণিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ। সরস্বতী বিদ্যার ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পুজিত হন। ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আধার হিসেবে সরস্বতী দেবীর আরাধনা   
করা হয়।
সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া, ঘোলঘর, উকিলপাড়া, বিলপাড়, হাছননগর, ওয়েজখালী, মল্লিকপুর, রায়পাড়া, সোমপাড়া, জেলরোড, বাজারসহ শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০৮টিও বেশী মন্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সুনামগঞ্জ শহরের ৪৫ বন্ধুর উদ্যোগে উত্তর নতুন পাড়ায় বিদ্যামিত্র পূজা কমিটির মন্ডপে দিনভর ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। জেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার লোকজন বিশাল উচ্চতার সরস্বতী প্রতীমা দেখতে এসেছিলেন। দুপুরে ভিড় একটু কম থাকলেও সকাল, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় ছিল।
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ হরেকৃষ্ণ সরকার সুনামগঞ্জ শহরের ছেলের বাসা থেকে বিকালে এসেছিলেন বিদ্যামিত্র পূজা কমিটির পূজা দেখতে। তিনি জানান, জীবনে অনেক সরস্বতী পূজা দেখেছেন তিনি। তবে এত বড় প্রতীমা দিয়ে পূজা করতে দেখেন নি বা শুনেনি তিনি। হরেকৃষ্ণ সরকার বলেন,‘ আমার মত অনেক মানুষ বাহির থেকে এই পূজা দেখতে এসেছেন। পূজা দেখে বেশ ভালই লেগেছে। ’
বিদ্যামিত্র পূজা কমিটির ব্যতিক্রমী এই পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল, যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার মঞ্জুর আহমদ, জেলা যুবলীগের সদস্য নুরুল ইসলাম বজলু, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এহসান আহমেদ উজ্জ্বল। এছাড়া শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ এই পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।
জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি নৃপেশ তালুকদার নানু বলেন,‘ শহরে ১০৮টিরও বেশী মন্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলার সকল উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সরস্বতী পূজা হয়েছে, কোথাও কোন অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সারা জেলার মধ্যে আকর্ষনীয় পূজা ছিল নতুন পাড়ার বিদ্যামিত্র কমিটির পূজা। তাদের ২৯ ফুট উচ্চতার মুর্তি দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসেছিলেন। শহরের তরুণদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সফল ও সার্থক হয়েছে।’