স্টাফ রিপোর্টার
বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গান সমবেত ভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক দ্বিপায়ন চৌধুরী ও সোমা সাহা নেতৃত্বে ৬ জনের দল গান পরিবেশন করেন। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের সাথে জামালগঞ্জ উপজেলার অস্মিতা রায় মিথিলা নৃত্য পরিবেশন করেন।
এরপর একে একে সংগীত শিল্পী অভিজিৎ তরফদার ‘তোমায় প্রথম যেদিন দেখেছি’, দিরাই উপজেলা থেকে কন্ঠশিল্পী মৃন্ময়ী মীম ‘ছাইরা থাকতে পারবো না গো, কি হইলো মোর মনে’। সংগীত শিল্পী শান্তিময় ভট্টাচার্য্য শোনান, ‘সুন্দরী রাধে গো তোর কানাইয়া যাইব ছাড়ি, তাই ভাবিয়া হাছন রাজা ফিরে বাড়ি বাড়ি/‘সুন্দরী রাধে গো তোর কানাইয়া যাইব ছাড়ি’। সোমা সাহা পরিবেশন করেন নজরুল সংগীত ‘প্রিয় যাই যাই বলো না, না না না/আর ক’রো না ছলনা, না না না’। বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পী দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন ‘তুমি আমার প্রথম সকাল, একাকি বিকেল ক্লান্ত দুপুর বেলা গেয়ে শোনান। ছাতক উপজেলার সেঁজুতি হৃদি আবৃত্তি করেন কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল’র কবিতা ‘ছবি’, দিরাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নারায়ন দাস ‘মায়ের এক ধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম, পাপোশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না …’।
এছাড়াও সংগীত মাকসুদুর রহমান দিপু পরিবেশন করেন ‘ভেঙ্গেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, উড়েছে পাখি পথ অচেনা, নিড়েরই ঠিকানা পাবে কিনা, পাখি তা নিজেই জানে না’। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক দ্বিপায়ন চৌধুরী নজরুল সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। তিনি গেয়ে শোনান ‘ভরিয়া পরান শুনেতেছি গান আসিবে আজি … রাঙ্গায়ে চরন আসিবে গো প্রিয়া’
বুধবার বিকাল ৪টায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতির একটি অংশ। আমার নিজ জেলা হলো চট্টগ্রাম। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি পহেলা বৈশাখের দিন মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। ঢাকায় রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানেও আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার যে ক্রান্তিকাল ও মহামারী চলছে সেজন্য আমরা অন্যবারের মতো অনুষ্ঠান করতে পারছি না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের প্রথমে বলা হয়েছে এবার সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে। কিন্তু পরবর্তিতে ব্যাপক আকারে দেশে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আবারও ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠান করার কথা বলা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ থেকে জেলখানা, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এসময় তিনি নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২৮ এবং পহেলা রমজানের শুভেচ্ছা জানান সকলকে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সুনামগঞ্জ এর ফেসবুক পেজ এ ভার্চুয়ালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল।
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক দ্বিপায়ন চৌধুরী ও সোমা সাহা নেতৃত্বে ৬ জনের একটি দল, দিরাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নারায়ন দাস, কন্ঠশিল্পী মৃন্ময়ী মীম, সংগীত শিল্পী শান্তিময় ভট্টাচার্য্য, জামালগঞ্জ থেকে অস্মিতা রায় মিথিলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে বাউল লাল শাহ, ছাতক উপজেলা থেকে সেঁজুতি হৃদি ও অভিজিৎ তরফদার, নৃত্যশিল্পী শ্রী পর্ণা দে।
এদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রতিযোগিতায় ১২১ জন অংশগ্রহণ করেন। বিকালে কুইজ প্রতিযোগিতায় ৫জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা হলেন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া সুনামগঞ্জ সদর নিলয় দাশ, জেলা শিক্ষা অফিসের সাইদ আল-হাসান, বিশ্বম্ভরপুর পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয় স্বপ্নিল কান্তি পাল, সরকারি এস সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জুয়েল চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু ল টেম্পল কলেজে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার রাজীব কান্তি পাল। বিজয়ীদের পুরস্কার বাড়িতে সকলের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী।



