ভাষাসাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা

(পূর্ব প্রকাশের পর) (৪) পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে বাংলাশব্দের সঙ্গে আববি-ফারসি-উর্দু শব্দ মিশিয়ে পাকিস্তানি বাংলা বা ইসলামি বাংলা সৃষ্টির প্রাণান্তকর প্রয়াস ও বাংলাকে আরবি হরফে লেখার প্রচেষ্টা জায়মান ছিল। হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, “অজস্র অপস্বাপ্নিকে পূর্ণ পাকিস্তানে ফজলুর রহমান আবির্ভূত হয়েছিলেন আরবিলিপির অপস্বাপ্নিকরূপে। তাঁরা কেউ ধর্মনিষ্ঠ না হ’লেও ইসলাম ও আরবিকে ব্যবহার করেছেন নবনব ষড়যন্ত্রের যন্ত্ররূপে: বাঙলাকে আরবিলিপির দ্বারা পর্যুদস্ত করা ছিলো এসব ষড়যন্ত্রের একটি।”(১৪) ষড়যন্ত্রটির হোতা যদিও অবাঙালি কিন্তু, সহজেই বোধোদয় হয় যে, তারা এক শ্রেণির ‘সমাজবিলগ্ন’ রাজাকার বাঙালিকে বান্ধব হিসেবে লাভ করেছিল। তারা উর্দুর কারিন্দাগিরিতে যৎপরোনাস্তি দক্ষ ছিল।
প্রকৃতপ্রস্তাবে বর্তমানে রাজাকার অর্থে বাংলাভাষীরা যা বোঝেন, ঠিক সেই অর্থে মধ্যযুগ কিংবা ব্রিটিশ আমলের সমাজেও রাজাকার ছিল, তারা সে সময়ে পরদেশী স্বার্থরক্ষার্থে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছিল। ১৯৭১-য়ে সে দায়িত্বের প্রাতিষ্ঠানিক-রাজনীতিক নামান্তর ছিল শান্তি কমিটি, আল বদর, আল শামস, রাজাকার ইত্যাদি। সেটা প্রকৃতপ্রস্তাবে ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষে কার্যত একটি ঐতিহাসিক সেবা প্রদানের তৎপরতা কিংবা রাজনীতিক রূপায়ণ। কিন্তু ব্রিটিশামলে জমিদার ও মুৎসুদ্দি শ্রেণির লোকেরা, যারা কলকাতা শহরে গায়ে বু (গন্ধ) লাগিয়ে ঘুরে বেড়াত বলে বাবু নামে প্রথিত ছিল, তারা শ্রেণি হিসেবে ছিল ইংরেজদের বিশ্বস্ত দেশীয় মিত্র, একান্ত সুহৃদ। লোকসমাজে ইংরেজদের সঙ্গে তাদের এই হৃদ্যতাকে স্বদেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে সমার্থক সাব্যস্ত করে তৎকালে রাজাকার নামে তাদেরকে চিহ্নিত ও অভিহিত করা হয়নি। অর্থাৎ তখন তারা রাজাকার নামে পরিচিত ছিল না। কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে তারা তৎকালের আর্থসামাজিক বিন্যাসে শ্রেণিগত পরিচয়ে রাজাকারই ছিল এবং যথার্থ অর্থে রাজাকারের ভূমিকাই পালন করেছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ১৯৭১-য়ে এই শ্রেণির স্বদেশবিরোধী মনোভাবাপন্ন বিদেশীর দাসত্বে প্রীত লোকেরা, যারা ঔপনিবেশিকতার দেশীয় দালাল ছিল, লোকনিরুক্তিতে তারা রাজাকার নামে কদর্থে অভিহিত হয়েছে। বাংলা অভিধানে ‘রাজাকার’ শব্দটিকে কদর্থেই প্রবেশ্য শব্দরূপে প্রাপ্ত হওয়া যায়।
(৫) পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে-পরের একটি বিশেষ কালখণ্ডে তথাকথিত তরুণ ‘জাতীয়তাবাদী’ বলে পরিচিত এক ক্ষুদ্র লেখকযূথ কর্তৃক পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বর্জন ও আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। বাংলাভাষাদ্বেষণার এমন অনেক ভয়ঙ্কর অঘটন-ঘটনার-ঘনঘটা ও ষড়যন্ত্রে বাংলাভাষার ইতিহাস ভরপুর। কেউ কেউ ফাঁকিস্তানবাদী এইসব বিখ্যাতদের একটি তালিকা প্রস্তুতে প্রবৃত্ত হয়েছেন। এই তালিকান্তর্গতদের মধ্যে ছিলেন অবুল মনসুর আহমদ, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন. সৈয়দ আলী আহসান, আবুল ফজল, গোলাম মোস্তফা, ফররুখ আহমদ, রওশন ইয়াজদানী, তালিম হোসেন, মোফাখখারুল ইসলাম, মীজানুর রহমান, শাহেদ আলী প্রমুখ।
আইয়ুব খানের সংস্কৃতিমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিনের রেডিও-টিভিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের ঘোষণাসহ রাধা, রাই, কৃষ্ণ, কানাই, বাঁশি, বৃন্দাবন, কদম্ব, কদম্বতলা, যমুনা ইত্যাদি শব্দ প্রচারে নিষেধারোপ এবং বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারে আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের নির্বিচার প্রক্ষেপণ করে ভাষাদূষণসম্পন্নের দ্বারা বাংলাভাষাকে ধর্ষণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র কার্যকর করে প্রকারান্তরে বাংলাভাষাবধযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। আর এইসব কর্মকাণ্ডের একটিই নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল : শেষ পর্যন্ত ভাষাবিনাশের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃতপ্রস্তাবে বাঙালিকে ভাষাসাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার গভীর গহ্বরে নিপতিত করে বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্যু নিশ্চিত করা। একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যক্ষ করলে যে-নীতিকে ‘এক জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর চেতনায় জাতীয়তাবোধের উন্মেষ প্রতিরোধের নীতি’ বলে প্রতিভাত হয়।
এই নীতিটি ব্র্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের শাসনাধিপত্য পাকাপুক্তকরণের অভিপ্রায়ে প্রয়োগ করেছিল। এ জন্য ভারতবর্ষের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভিন্ন জাতিসত্তার বিকাশের ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্নতাবাদিতার অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রাখতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতিক প্রকরণ বাস্তবায়িত করতে কসুর করে নি। অর্থাৎ প্রকারান্তরে রাজনীতিক প্রতারণা, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত করে জাতির অভ্যন্তরে বিভাজন, বিযুক্তিকে (যেমন বাঙালি জাতিকে বঙ্গভঙ্গের দ্বারা) জায়মান রেখেছিল। এই কারণে ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরে জাতিগঠনের যে-ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া ব্রিটিশপূর্বকাল থেকে জায়মান ছিল, সেটা ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যাহত হয়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ভাষা, জীবনাচরণ, ঐতিহ্য ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যানুসারে গড়ে উঠা ঐক্যবোধকে ব্রিটিশরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতিক কার্যক্রমের দ্বারা প্রতিহত ও অনৈক্যে পর্যবশিত করার প্রয়াস পায়। এক অঞ্চলের অংশকে অন্য অঞ্চলের অংশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার রাজনীতিক নোংরামিতে মেতে উঠে, যে-গুলোর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ভাষাসাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। মাদ্রাজ তেমনি একটি চমৎকার খিচুড়ি প্রেসিডেন্সি বা প্রশাসনিক এলাকা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিচ্ছিন্ন কর এবং শাসন কর নীতির জলজ্যান্ত উদাহরণ। যা গঠন করা হয়েছিল তামিল, তেলেগু, কানাড়ি ও মালয়ালমভাষী কমবেশি এলাকা নিয়ে, প্রত্যেকটি জাতিসত্তার জাগরণকে স্থবির করার নোংরা অভিপ্রায়ে। হায়দ্রাবাদে তৈরি করা হয়েছিল তেলেগু, মারাঠি ও কানাড়িভাষার অদ্ভুত বিগলন। সিলেট-করিমগঞ্জকে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল আসামের সঙ্গে, বাঙালি ও অসমিয়া জাতিসত্তার মিথষ্ক্রিয়া সৃষ্টির অভিপ্রায়ে নয়, বরং বিশেষ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষকে প্রতিহত করার গূঢ় দুরভিসন্ধিতে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সনে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার স্বপ্নপুরন সম্ভব হয়েছে ব্রিটিশ সর্জিত বিচ্ছিন্নকরণের রাজনীতিক কুঠারের অভিঘাতে বাংলা, পাঞ্জাব, কাশ্মিরকে খণ্ডিতকরণের বিনিময়ে। অর্থাৎ বাঙালি, পাঞ্জাবী ও কাশ্মিরী জাতিসত্তাকে আক্ষরিক অর্থেই বিচ্ছিন্নতাবাদের অতল অন্ধকারে তলিয়ে দিয়ে। বিচ্ছিন্নতার সে-গুরুভার আজও এইসব জাতিসত্তাকে বলদের কাঁধে জুড়ে দেওয়া জুয়াল বহনের মতো বইতে হচ্ছে। তারপর বলতেই হয়, ইংরেজদের এই অসভ্যতার কোনও তুলনা হয় না।
বাংলাভাষাদ্বেষণার এই সব ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুসলিম সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছিল এবং আজও সেই বিচ্ছিন্নতাবাদের রেশ একেবারে নিঃশেষ যে হয়ে যায় নি তার প্রমাণ, সাংবিধানিকভাবে আমাদের রাষ্ট্রের ধর্ম আছে। ইসলামের দোহাই দিয়ে কালে কালে প্রচলিত, প্রতিষ্ঠিত এবং আজও স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত তথাকথিত এই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুসলিম সংস্কৃতি সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর বলেন, “সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমেই মুসলিম সংস্কৃতি নামে কথিত সংস্কৃতি পরিণত হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণিস্বার্থ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ারে। এ মুসলিম সংস্কৃতি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেওবন্দের মুসলিম সংস্কৃতি নয়। এ এমন এক সংস্কৃতি যার সাথে ইসলামের তেমন কোন তত্ত্বগত যোগ নেই। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কৃতি ইসলামে বিশ্বাসী বলে যারা দাবি করে তাদের হালুয়ারুটির যোগানদার।’’(১৫)
প্রাক-ঔপনিবেশিক, ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তান আমল থেকে এমনকি একাত্তুর পরবর্তী এই বর্তমানকাল পর্যন্ত এক দীর্ঘ সময়খ-ব্যাপী দেশীয় সংস্কৃতির বিপরীতে এই বিশেষ মধ্যপ্রাচ্য সংস্কৃতির প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠার সচেতন প্রচেষ্টা-প্রতিক্রিয়া সমাজ পরিসরে কার্যকর ছিল ও এখনও আছে। এই অবাঙালি সংস্কৃতির প্রতিক্রিয়াশীল ধারক-বাহকরা ভাষাসাংস্কৃতিক দূষণক্রিয়া চালাতে কতোটা তৎপরতা দেখতে পারে তার নমুনা মেলে অমলেন্দু দের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “তাই বাংলাদেশে যখন বাংলা ভাষা বাঙালীর জাতীয় ভাষারূপে বিকশিত হয় এবং ফারসিকে স্থানচ্যুত করতে থাকে, তখন শিক্ষিত মুসলমানরা তা সহজে মেনে নিতে পারেননি। যেহেতু সকল জাতিই মায়ের ভাষা অনুসরণ করে, সেজন্য তাদের পক্ষে বাংলা ভাষার অগ্রগতি রোধ করা অসম্ভব ছিল। তাই এই সময়ে শিক্ষিত মুসলমানেরা আরবি-ফারসি শব্দ মিশিয়ে মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক বাংলা ভাষা গঠনে উদ্যোগী হন। মুসলিম ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্ভর এই ভাষা ও সাহিত্য তাদের পৃথক সত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে, এই ছিল তাঁদের আশা। একেই ‘মুসলমানী বাংলা’ বলা হয়।”(১৬) এই মধ্যপ্রাচ্যীয় সাংস্কৃতিক মুসলিমীকরণের (আদৌ ইসলামি নয়) অনেক প্রকল্পের বিশেষ একটি প্রকল্প হলো : সমাজের সর্বক্ষেত্রে বাংলাভাষাকে পরিহার করে আরবি-ফারসি-উর্দুর চর্চা ও প্রচলনের প্রবল চাপ সৃষ্টি করা, ধর্মের দোহাই পেড়ে বাংলাভাষীকে বাংলাভাষাকে ঘৃণা করতে শেখানো। মধ্যপ্রাচ্য সংস্কৃতির এই ধারক-বাহক-ঝা-াধারী উচ্চশ্রেণির মুসলিমরা নিজেদের সামাজিক-রাজনীতিক-আর্থিক যাবতীয় পার্থিব স্বার্থ উদ্ধারকল্পে ‘বাংলাভাষা সংস্কৃতজাত ভাষা’ এই মিথ্যা তত্ত্বকে সত্যরূপে আবিষ্কার করার পারদর্শিতা প্রদর্শন করে বাংলাভাষাকে ‘হিন্দুভাষা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হয়েছে। যুক্তি উপস্থাপিত হয়েছে : সংস্কৃত হিন্দুদের ধর্মীয় ভাষা, সংস্কৃতদুহিতা বাংলা তাই মুসলমানের ভাষা হতে পারে না। উচ্চশ্রেণির মুসলিমরা এই যুক্তির অবতারণা ও সেটিকে মুসলমানদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে বাঙালি মুসলমানকে তাঁদের স্বসংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন ও সাংস্কৃতিক উদ্বাস্তুতে পরিণত করে তাদের জাতিসত্তা বাঙালিত্বকে হত্যা করার ঐতিহাসিক রাজনীতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে এই রাজনীতিক ষড়যন্ত্রের হোতাশ্রেণির তথা বহিরাগত অবাঙালি তথাকথিত আশরাফ শ্রেণির মুসলমানদের প্রচারের কল্যাণে অ-আরবীয় মধ্যপ্রাচ্য ভাষাগুলোও (বিশেষ করে ফারসি ও উর্দু) ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সর্বত্র আরবির মতোই ধর্মীয় ভাষা বা ইসলামি ভাষা হিসেবে জনসমাজে স্বীকৃত ও পবিত্র মর্যাদায় উন্নীত হয়, যদিও এগুলোকে ধর্মীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মানে অবিমৃষ্যকর মূর্খতারই নামান্তর। বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য, তিনি বলেন, “মুসলমান উচ্চশ্রেণির স্বার্থরক্ষার জন্যে মোগল যুগোত্তর বাংলাদেশে ধর্র্মের দোহাই দিয়ে এদেশের সাথে এদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে তাদের উৎসাহের অন্ত রইলো না। এর ফলে বাংলা ভাষায় ধর্ম চর্চা করাও তাদের পক্ষে হলো অসম্ভব। এবং ঊনিশ শতকে ধর্মচর্চার ক্ষেত্র থেকে মুসলমানরা বাংলা ভাষাকে বাদ দেওয়াই হয়ে দাঁড়ালো তাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক দৈন্যের অন্যতম মূল কারণ।”(১৭)
কে না জানে, আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআনের ভাষা আরবি । কিন্তু এই বিশেষ শ্রেণির আশরাফ লোকেরা ও তাদের উত্তরসূরি সমকালের ভাবশিষ্যগণ স্বস্বার্থ উদ্ধারের খাতিরে ফারসি, তুর্কি বা উর্দুকেও ধর্মীয় ভাষার মর্যাদা প্রদানের প্রতারণা করতে ভালোবাসেন। আরবি হরফ ব্যবহারকারী ফারসি-উর্দু-তুর্কি মধ্যপ্রাচ্যের ভাষা হতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় ভাষা হতে পারে না। যখন কোনও না কোনও পক্ষ থেকে এই তিনটি ভাষাকে ধর্মীয় ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার বা বামচিন্তক উমরের ভাষায় ‘হালুয়ারুটির যেগানদার’ করে তোলার মতলব আঁটা হয়, তখন বোঝতে হবে যে, কোথাও না কোথাও একটা বদোদ্দেশ্য-ভজকট-ভেলকির বিষয় অবশ্যই বিদ্যমান আছে। জেনে রাখা ভালো যে, ভাষার কোনও ধর্ম নেই, যেমন রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম হয় না, যদিও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ধর্ম আছে। অর্থাৎ নীতিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে বিচ্ছিন্ন করার করার নতুন রাজনীতিটি হলো, ‘রাষ্ট্র নামাজ নাইবা পড়–, তারও একটা ধর্ম চাই।’ প্রকৃতপ্রস্তাবে এসব কীছুই কিংবা বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলমান বাঙালিদের ক্ষেত্রে ভাষাসাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির বিষয়টি শ্রেণি বিশেষের প্রতিনিধিদের দ্বারা স্বশ্রেণির কায়েমি স্বার্থরক্ষার্থে আরোপিত প্রপঞ্চ মাত্র, রাজনীতিক বটে তবে ধর্মীয় কোনও কীছু নয়। মনে রাখতে হবে, শাসকশ্রেণি জনগণের চেতনাকে আক্ষরিক অর্থে সত্য, স্বাধীনতা ও সুন্দরের স্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিপ্রায়ে ধর্মকেও ব্যবহার করতে কার্পণ্য করে না। পৃথিবীতে শ্রেণিস্বার্থে ধর্মের ব্যবহারের উত্তম একটি ক্ষেত্রের নাম নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ।
তথ্যসূত্র :
১. …, দ্বন্দ্বমূলক এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদের অ-আ-ক-খ, আনুবাদ : বিষ্ণু মুখোপাধ্যায়, প্রগতি প্রকাশন (মস্কো), ১৯৭৮, পৃষ্ঠা : ১৭৯।
২. ভøাদিমির ইলিচ লেনিন, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব. প্রগতি প্রকাশন মস্কো, ১৯৬৮, পৃষ্ঠা : ১৪।
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পারস্য, রচনাবলী, খ- ১০, পৃষ্ঠা : ৭৫৪।
৪. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাঙালি মধ্যবিত্তের বর্জনপ্রীতি, কালের খেয়া (শুক্রবারের সাময়িকী : ২৪৯), সমকাল, ১২ নভেম্বর ২০১০, পৃষ্ঠা : ৩০।
৫. গোলাম মুরশিদ, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, অবসর, পুনমুদ্রণ : জুন ২০০৮, পৃষ্ঠা : ১৮১।
৬. গোলাম মুরশিদ, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, অবসর, পুনমুদ্রণ : জুন ২০০৮, পৃষ্ঠা : ১৮৩।
৭. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষার শত্রুমিত্র, দ্বিতীয় সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃষ্ঠা : ১৮।
৮. শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী, সিলেটী ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, বাঙ্লা একাডেমী ঢাকা, প্রথম সংস্করণ : শ্রাবণ ১৩৬৮, পৃষ্ঠা : (৮Ñ৯)।
৯. প্রাগুক্ত।
১০. গোলাম মুরশিদ, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, অবসর, পুনমুদ্রণ : জুন ২০০৮, পৃষ্ঠা : (১৭৯-১৮০)।
১১. আহমদ ছফা, বাঙালি মুসলমানের মন, খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, এপ্রিল ২০০৯, পৃষ্ঠা : ৩১।
১২. হুমায়ুন আজাদ, বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্রু, আগামী প্রকাশনী, দ্বিতীয় সয়স্করণ : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃষ্ঠা : (১৮Ñ১৯)।
১৩. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, আত্ম-অন্বেষায় বাঙালি মুসলমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, বাংলা একাডেমী ঢাকা, প্রথম প্রকাশ : জুন ১৯৯৫, পৃষ্ঠা : ১৪।
১৪. হুমায়ুন আজাদ, বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্রু, আগামী প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃষ্ঠা : ২২।
১৫. বদরুদ্দীন উমর, সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (প্রবন্ধ : সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা), মুক্তধারা, তৃতীয় প্রকাশ : অক্টোবর ১৯৮০, পৃষ্ঠা : ২৬।
১৬. অমলেন্দু দে, বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, দ্বিতীয় মুদ্রণ : জুলাই ১৯৯১, পৃষ্ঠা : ১১৪।
১৭. বদরুদ্দীন উমর, সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (প্রবন্ধ : মুসলমানদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন), মুক্তধারা, তৃতীয় প্রকাশ : অক্টোবর ১৯৮০, পৃষ্ঠা : ২৮।
০২. বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা উপনিহিতকরণের ভূত কিংবা ব্যাধি
নিজের মাতৃভাষাকে বিধর্মীর ভাষা ভাবা কিংবা মেনে নেওয়ার মধ্যে আদৌ কোনও গৌরব নেই বরং ভাষার উপর নিজের নিরঙ্কুশ অধিকার অপর শরিকের (এখানে হিন্দু বা সনাতনধর্মালম্বী) কাছে উপনিহিতকরণের (রক্ষিত বা ন্যস্ত করার) নামান্তর। একেই বোধ করি বলে, হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা । এটা এতোই অবিমৃষ্যকর যে, এক অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে মাতৃভাষা থেকে নিজের বিচ্ছিন্নতাকে সম্ভব করে তোলা, প্রকারান্তরে নিজেকে ‘বজ্জাত’ বলে ধিক্কারের অংশভাক করার ইঙ্গিতবহ। অর্থাৎ যৎসামান্য বঙ্কিমবচনে বিষয়টির মর্র্মার্থ নিজের জাতকে (বিকাশের ঐতিহাসিক পরিক্রমায় বাঙালি নৃগোষ্ঠী ৭৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে পৃথক ভাষা ও সংস্কৃতির পরিসরে সামাজিক ও রাজনীতিক ক্ষেত্রে স্বকীয়তা অর্জন করে বিশিষ্ট জাতি হিসেবে আবির্ভূত হয়।) অস্বীকার করার অপকর্মরূপে পর্যবশিত হতে পারে। যা প্রকারান্তরে স্বাজাত্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্নতা ভিন্ন অন্যকীছু নয়। বিচ্ছিন্নতার এই প্রবণতাটি কোনও জাতির পক্ষে যতোটা অবিমৃষ্যকর, বোধ করি তারচেয়েও বেশি নির্বুদ্ধিতা। এমনকি এটা যে নির্বুদ্ধিতার চেয়েও এককাঠি বাড়া মূর্খতা, সেটা সিংহভাগ বাঙালি মুসলমানের আদপেই অধিগত নয়। তাঁদের বোধবুদ্ধি ধার্মনৈতিক বিধানানুসারে অসমর্থিত এক ধরণের মনগড়া নৈতিকতার দ্বারা এতটাই আচ্ছন্ন যে, ধর্মের অজুহাতে তাঁরা স্বভাষাকে পরভাষার স্বীকৃতি প্রদানে পরমানন্দ বোধ করেন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের ভাষাউপনিহিতকরণের এক অদ্ভুত, বোধাতীত ও অযৌক্তিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় : বাবু, বাবা, মা, জল ইত্যাদি শব্দকে ‘হিন্দুশব্দ’ মনে করা হয়। তাঁদের কাছে এই শব্দগুলোর ধর্ম আছে, এই শব্দগুলো কোনও না কোনও মানুষের মতো হিন্দু, কিন্তু মুসলমান নয়। এ দেশে ভাষারও ধর্ম থাকে যেমন ধর্ম থাকে রাষ্ট্রের, যদিও তারা নামাজ পড়ে না। এই অদ্ভুত ভাষাচর্চার সাংস্কৃতিক জমিতেই ভাষাআন্দোলনের বীজ উপ্ত ছিল। উল্লেখ্য যে, বাঙালি মুসলমানের ভাষাসাংস্কৃতিক এই অদ্ভুত ধর্মবোধ কিন্তু বাংলাভাষী মুসলমান ভিন্ন অন্য কোনও জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। এমনকি আরবি, ফারসি, উর্দু প্রভৃতি ভাষার গায়ে বাঙালি মুসলমান ধর্মীয় লেবাস পরিয়ে দিয়েছে, বাঙালি মুসলমানের দৃঢ় বিশ্বাস এই ভাষাক’টির ধর্ম আছে এবং ধর্মটি হলো ইসলাম, যদিও ওইসব ভাষা যাঁদের মাতৃভাষা তাঁরা কিন্তু তাঁদের মাতৃভাষার কোনও ধর্ম আছে এমন অবান্তর বিশ্বাস পোষণ করেন না। কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্যি এটাই যে, ইংরেজি ভাষার কোনও ধর্ম আছে এমন বিশ্বাস বাঙালি মুসলমান পোষণ করেন না, যেমন করেন আরবি, ফারসি, উর্দু কিংবা সংস্কৃত ও বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে। ইংরেজি ভাষার সঙ্গে কোনও ধর্মবোধ ওতপ্রোত নয়, এই সুবাদে এই ভাষাটিকে বাঙালি মুসলমান ধর্মনিরপেক্ষ ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে এবং মাতৃভাষায় ধর্মহীন ভাষাকে (ইংরেজিকে) নির্বিচার প্রক্ষেপণে কোনও দ্বিধা করেন না। অপরদিকে মাতৃভাষা বাংলার উপর বিধর্মবোধ (বাংলাভাষার একটি ধর্ম আছে আর সেটি হলো : হিন্দুধর্ম) আরোপ করে সেটাকে (বাংলাভাষাকে) উপনিহিতকরণে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকেন, অথচ এই বাংলা ভাষাজলরূপসমুদ্রেই মীণরূপ মানুষ হিসেবে তাঁরা কালাতিপাত করেন। প্রশ্ন হলো এমনসব অদ্ভুত ও কা-জ্ঞানহীন কা-কারখানা কী করে সংঘটিত হতে থাকে কোনও একটি সমাজে ? এর একটি বলতে সহজ কিন্তু বুঝতে কারও কারও পক্ষে যৎকিঞ্চিৎ জটিল উত্তর আছে। প্রকৃতপ্রস্তাবে এমন হতেই পারে, কোনও একটি উপনিবেশিত দেশে ‘এমনসব অদ্ভুত ও কা-জ্ঞানহীন কা-কারখানা’ অবলীলায় সংঘটিত হয় ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বের প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করে। ঔপনিবেশিক সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি উপনিবেশিত দেশে এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যভিচারটি বাস্তবায়িত করে থাকে দেশটিকে নির্মমভাবে শোষণ করে ছিবড়ে বানিয়ে দেওয়ার স্বার্থে। এমনকি এই কায়েমি স্বার্থ রক্ষার্থে তারা প্রতিটি শব্দের অর্থের ভেতরে মিথ্যাকে প্রবিষ্ট করে দেয়, বদলে ফেলে ভাষার ব্যাকরণকে। বাঙালি মুসলমান কতৃক বাংলাভাষা উপনিহিতকরণের প্রকল্প অনুসরণ বহুমাত্রিক ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বের প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি অংশ মাত্র।
ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্বকে উপজীব্য করে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ এখানে নেই। অনস্বীকার্য যে, এই ‘ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত’ সম্পর্কিত ধারণাটি সাধারণ্যে একটি অভিনব প্রসঙ্গ বটে, তেকারণে কারও কারও পক্ষে এ সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ ধারণা গ্রহণের প্রয়োজন থাকতেই পারে (অন্তত আমার আছে) এবং ‘ভাষা উপনিহিতকরণ’ প্রসঙ্গটি এই ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্তের সঙ্গে অনিবার্যভাবে ওতপ্রোত। কারণ ‘ভাষা উপনিহিতকরণ’ এমন একটি সাংস্কৃতিক প্রপঞ্চ, যে-প্রপঞ্চের ভেতরে কোনও দেশে ঔপনিবেশিকতার প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাপর উপনিবেশিত দেশের সামাজিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরে গড়ে উঠা ও প্রতিষ্ঠিত-প্রচলিত সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের লক্ষণ বিধৃত থাকে, যে লক্ষণকে- একটু অন্যরকম বিবেচনায়- এক অর্থে ভাষাসাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা বলে অভিহিত করা বোধ করি অসমীচীন হবে না। স্বসভ্যতাকে অস্বীকার, স্বজাতির শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকে বিচ্যুত হওয়া, স্বাজাতিক হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত হওয়া ও নিমজ্জিত থাকা, স্বসংস্কৃতিকে নিকৃষ্ট ভাবা, নিজস্ব চিন্তাচেতনাকে অকেজু সাব্যস্ত করা, ঔপনিবেশিকদের দাসত্বকে শ্রেয় বিবেচনা করা, উপনিবেশোত্তর পর্বেও সাম্রাজ্যবাদী প্রভুশক্তির সুবিধা নিশ্চিতকরণে দালালি করা ইত্যাদি কিংবা একজন মির জাফর আলি খাঁ, আবদুল লতিফ, খাজা নাজিমুদ্দিন, ফজলুর রহমান, নুরুল আমিন, নিরোদচন্দ্র চৌধুরী, সৈয়দ আলী আহসান, গোলাম আজম, জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোস্তাক আহমদ হয়ে উঠা প্রকারান্তরে এই ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্তের দাসত্ব করে জীবন যাপনের নামান্তর মাত্র। ভুলে গেলে চলবে না, ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্তের নিয়ন্ত্রণে জীবন যাপনের মানে হলো : সমাজশাসনের প্রতিটি স্তরে তত্ত্ব ও প্রয়োগের পুরনো বিচ্ছিন্নতার পুনরাবৃত্তি, যা ঔপনিবেশিক সমাজের সব থেকে ক্ষতিকর ও খতরনাক প্রবণতা। সুতরাং প্রসঙ্গটির গুরুত্ব সম্যক অনুধাবন করে এ সম্পর্কে কয়েকেটি প্রাসঙ্গিক বক্তব্য উদ্ধৃত করার উৎসাহকে অবদমিত করা সম্ভব হলো না। ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্তের স্বরূপ উপলব্ধি করা সম্ভব এমন কয়েকটি ঐতিহাসিক সহায়কসূত্র এখানে উপস্থিত করা হলো :
১. “উপনিবেশবাদি তাত্ত্বিকরা উপনিবেশের সমাজ-সংস্কৃতি সাফ করে নিজেদের মতো করে নির্মাণ করে এক নতুন সংস্কৃতি ও ইতিহাস, আর বলে, নাও এটাই তোমাদের ইতিহাস।”(১)
২. “উপনিবেশকাররা ঔপনিবেশিতদের সভ্যতাহীন, বর্বর, এবং অধঃপতিত করেছে। বাধ্য করেছে নিজের চিন্তাচেতনা বলি দিতে, কাজ করেছে শঠতা, সংঘাত (চলবে)