ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ একটি ভাল উদ্যোগ

ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। সাম্প্রতিককালে আশংকাজনক হারে জঙ্গী তৎপরতা বেড়ে যাওয়া বিশেষ করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আতিয়া মহলে জঙ্গীগোষ্ঠীর শক্তিশালী অবস্থানকে ধ্বংস করতে সেনাবাহিনির চার দিনের অভিযানকে মাথায় রেখে পৌর কর্তৃপক্ষ সোমবার এরকম সিদ্ধান্ত নিলেও সংগৃহিত এই ভাড়াটিয়াদের তথ্য আরও নানা কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সারা দেশে জঙ্গী আস্তানার যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি যেসব আস্তানা খোঁজে পাচ্ছে, প্রায় তার সবগুলোই ভাড়াটিয়া বাসস্থান। জঙ্গীরা নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে নিজেদের সংগঠিত, হামলার ছক কষা ও হামলা পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং জঙ্গী নির্মূলে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ ও নিয়মিত মনিটরিং করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির জন্য একটি জরুরি কাজ বটে। সুনামগঞ্জ পৌরসভা এই ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হয়ে মূলত একটি বিশাল সামাজিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হলো। এজন্য আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
বৈঠক অনুষ্ঠানের পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে শহরের ভারাটিয়াদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য কাউন্সিলরবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও ভবন মালিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের শহরটি ক্রমশ ভিলেজ টাউনের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে পরিপূর্ণ নগর হয়ে উঠছে। শহরে বাড়ছে বাসা-বাড়ি, বাণিজ্য, অফিস আদালত এবং মানুষ। আগে যেমন শহরের সকলেই সকলের পরিচিত ছিলেন সেরকম পরিবেশ এখন আর নেই। বরং পাশের বাসার কেউ কাউকে চিনেন না এমন একটি অবস্থার দিকে আমরা ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসা ও চাকুরিজনিত কারণে শহরে প্রচুর বহিরাগত লোক বসবাস করেন। তাদের আবাসিক চাহিদা মিটাতে গড়ে উঠেছে বহু বহুতল ভবন। নগরীর এই ব্যস্ত সুবিধাকে কাজে লাগায় জঙ্গীরা। সুতরাং ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও এর নিয়মিত তদারকি বজায় রাখা এখন যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলাজনিত কারণে দরকার। ভবন মালিকদের যেনতেন প্রকারে তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে পরিচিতি নিশ্চিত হতে সম্ভাব্য সবধরনের উপায় অবলম্বন করতে হবে। ভাড়া দেয়ার পর ভাড়াটিয়ার আচার আচরণ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিকে জানাতে হবে। কোন অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে ভবন মালিকরাও নানাবিধ হয়রাণির সন্মুখিন হন। এরকম হয়রাণির সন্মুখীন না হওয়ার জন্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভবন মালিকদের এসব কর্তব্য বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক সচেতনতামূলক সভা করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।  
সুনামগঞ্জ পৌর এলাকায় আসলে কত লোক বসবাস করেন তার সঠিক কোন তথ্য নেই। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বিশেষ করে পৌরসভার নাগরিক সেবার সঠিক  চাহিদা নিরুপণের জন্য এরকম তথ্য খুবই সহায়ক হবে। আমরা মনে করি পৌর কর্তৃপক্ষের একটি তথ্য ফরমের নমুনা প্রস্তুত করে দেওয়া উচিৎ। যেখানে ভারাটিয়াদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিজ জেলা-উপজেলা, পেশা এমনসব বিষয় উল্লেখ থাকে। তথ্যাদি পৌরসভায় এবং স্থানীয় থানায় রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। ভাড়াটিয়ার প্রবেশ ও প্রস্থান  উভয় সময়েই এই রেজিস্টার সংশোধন করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে ভবন মালিককে। আজ সারা দেশে যে জঙ্গী হুমকি প্রবল হচ্ছে সেখান থেকে উদ্ধার পেতে হলে প্রতিটি মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিজের দেশের নিরাপত্তা বিধানে সকলেই সাগ্রহে এই দায়িত্ব পালন করবেন। যারা নাগরিক কর্তব্য পালনে অবহেলা দেখাবেন তাদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ করাও সমান জরুরি।