ভিজিএফ বিতরণে দুর্নীতি রোধে ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রস্তাবনা

ছাতক প্রতিনিধি
ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণে দুর্নীতি রোধ কল্পে বাস্তবমুখী কয়েকটি প্রস্তাবনা প্রণয়ন করেছেন ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল। ২১ আগস্ট প্রণয়নকৃত প্রস্তাবনাসহ মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব বরাবরে পৃথক চিঠি প্রেরণ করেছেন তিনি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, হাওরের বোরো ফসলহারা সুনামগঞ্জের ১ লাখ ৬৮ হাজার পরিবারকে      
তালিকাভুক্ত করে সরকারি সুবিধাভোগীর আওতায় আনা হয়। তালিকাভূক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিমাসে ৩০কেজি করে চাল ও নগদ ৫শ’ টাকা বিতরণে প্রায়ই দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে সচেতন গণমাধ্যমের বরাতে। বিতরণের সময় ওজনে কম দেয়া, গোদাম থেকে চাল কম সরবরাহ করা, চাল দিয়ে টাকা না দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপকারভোগিরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মহৎ উদ্যোগ কিছুটা হলেও বিঘœ হচ্ছে কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারনে। এ ছাড়া অনেক উপকারভোগী দূরবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে সময়মত আসতে পারে না বা আসা-যাওয়ার খরচ হিসেব করে অনেকে সহায়তা নিতে আসছে না।
সরকারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বিবেচনায় উপকারভোগি প্রতিজনের নামে নূন্যতম চালের মুল্য ও নগদ অর্থ ব্যাংক একাউন্ট খুলে নিজ-নিজ একাউন্টে অর্থ প্রেরণ করা হলে এ ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে। পূর্বে কৃষকদের ১০ টাকায় একাউন্ট খোলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে বলে তিনি প্রস্তাবনায় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তাই সহায়তা বান্ধব সরকারের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এ কাজটি পরিকল্পনায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত শুনানীতে তাকে ডাকলে অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা তিনি তুলে ধরবেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবনার অনুলিপি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগী কমিশনার ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে প্রেরণ করেছেন। জেলা প্রশাসকের মাসিক সভায় এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ সেপ্টম্বর জেলা উন্নয়ন সমস্বয় সভায় সুনামগঞ্জ জেলার সকল বিভাগে ক্যাটাগরী ভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা ২৯ সেপ্টম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে উত্থাপনের দাবি জানান তিনি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়টি পৃথক চিঠির মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন।