ভোটার এলাকা স্থানান্তর করলো কে?

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মো. শহিদ মিয়া তাঁর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচন করে মাত্র কয়েক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবুও এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। সেই মনোনয়ন ফরম পুরণ করতে তাঁর ইউনিয়নের হালানাগাদ ভোটার তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেয়ে বিপাকে পড়েন। তখন তিনি অনলাইনে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সার্চ করে দেখেন যে, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে তাঁর ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। কোনো উপায় না দেখে শহিদ মিয়া পুরনো ভোটার তালিকার ভোটার নম্বর অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। কিন্তু রবিবার দুপুরে যাচাই বাছাইয়ের পর সেই মনোনয়ন ফরমটি প্রাথমিকভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণা শুনার পর বারবার মূর্চা যাওয়া শহিদ মিয়া ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী।
কালাগড় গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা শহিদ মিয়া গত ৮ ডিসেম্বর বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সালমুন হাসান বিপ্লবের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। পরে তা পূরণ করতে গিয়ে ভোটার তালিকায় দেখেন তাঁর নাম পার্শ্ববর্তী বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবুও তিনি পুরাতন ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার নম্বর ব্যবহার করে ফরম পূরণ করে জমা দেন। বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে তিনি কথা বলেন। তাদের পরামর্শক্রমে শহিদ মিয়া পরের দিন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এদিকে রবিবার তাঁর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
মো. শহিদ মিয়া বলেন, ‘আমি কখনওই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করিনি। তা হলে কীভাবে এমনটি হলো বুঝতে পারছিনা। তাই আমি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাই।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসাইন বলেন, ‘মো. শহিদ মিয়া আমার ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।’
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সালমুন হাসান বিপ্লব বলেন, ‘ভোটার তালিকার জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ে ওই প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আপীল করতে পারেন। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না তা আপীল কর্তৃপক্ষের রায়ের উপর নির্ভর করছে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কারও আবেদন ছাড়া ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’