মন কেড়ে ভাঙল নারকেল বীথির প্রাণের মেলা

স্টাফ রিপোর্টার
গত দুইদিনের আনন্দ উচ্ছ্বাস শনিবার বিকেল থেকেই যেন বিষাদে রূপ নিতে শুরু করেছিল। যেসব বন্ধুরা এসেছিলেন তারা অনেকেই শনিবার বিকালে উৎসব স্থল ছেড়ে যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছিলেন। বিদায়ের সময় একজন আরেক জনের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন। তখন সকলেই সজল আবেগে বাকরুদ্ধ। এই বিষাদগ্রস্ততা দেখা গেছে রাতে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও। টানা দুইদিন কোন দিক দিয়ে পেরিয়ে গেছে কেউ টেরই পাননি। বিদায়ের সময়ে এসে সকলেই মনে করলেন এবার ভাঙল নারকেল বীথির মিলন মেলা। মন কেড়ে নিয়ে শেষ হলো সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসব। এর আগে দিনভর চলছিল নানা অনুষ্ঠানাদি।
বন্ধু বিনা প্রাণ বাঁচে না, আমি রব না- রব না ঘরে, বন্ধু বিনা প্রাণ বাঁচে না../ এক পয়সার কেচকি মাছ খাইলোরে বিলাইয়ে, এরই লাগি ডেমা চোরা চুল ধরি টানেরে..। পুরোনো দিনের এমন গানে গানে কেউ ধামাইল, কেউ নৃত্য, কেউ হই হুল্লুর, এভাবেই মেতেছিল প্রতিটি গ্রপ প্রতিটি ব্যাচ। যেন অন্য রকমের আবেগি আমেজ। কলেজের নানা স্থানে বসে আনন্দ উল্লাস, স্মৃতিচারণ আড্ডায় মেতেছিলেন প্রাক্তনরা। কোনো কোনো ব্যাচ মঞ্চে ওঠে নিজেদের পরিচয় জানিয়ে দরাজ কণ্ঠে আপন মনে গাইছিলেন। অন্যরা সুরে-বেসুরে বন্ধুদের আনন্দে শরিক হন। আনন্দের বন্য বইছিল পুকুর পাড়ে, নারিকেল গাছের তলে, মাঠের পেছনে, কলেজ চত্বরের কোণে কোণে।
৮৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী এনাম, নাসিমা, কাকলী, শেলী, মুক্তি, মনির, টিটু, কৃপেশ, রতন জানালেন, পুরোনো বন্ধুদের পেয়ে আগের দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম। এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এরা।
৯০ ব্যাচের রুবিনা, এনাম বললেন, এই আনন্দ মনে থাকবে জীবনভর।
৯৩ ব্যাচের পিয়া, রুবি, বিমল জানালেন, আমরা যারপর নাই খুশি। কর্মজীবনের ব্যস্ততা ভুলে গিয়েছিলাম এই দুইদিন। এভাবে প্রত্যেক ব্যাচের প্রাক্তনরাই আনন্দ-উচ্ছাসের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। বললেন উৎসবের এই স্মৃতি বেঁচে থাকবে বহুদিন।
শুক্রবার থেকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল থেকে দিনভর ছিল প্রাক্তনদের স্মৃতিচারণ এবং বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।