মহিলা পরিষদের গণসমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ২৫ বছরকে সামনে রেখে ‘বেইজিং প্লাস ২৫ পর্যালোচনা: নাগরিক সমাজের সম্পৃক্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল শুক্রবার গণসমাবেশ হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা এই গণসমাবেশর আয়োজন করে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে জেলা শহর, বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়ন থেকে নারীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। সমাবেশে সভাপতিত্ব
করেন আয়োজক সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য। চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের বেইজিং ঘোষণা পাঠ করেন আয়োজক সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফা আশ্রাফী। সমাবশে অতিথিদের পাশাপাশি তৃণমূলের নারীরা তাদের সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য দেন কৃষক নারী মাজেদা আক্তার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী ইজিবাইক চালক যাত্রী রানী বর্মণ, দলিত নারী বেবি বাল্মিকী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ঝরনা রানী শীল।
সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনীতিক ও সমাজকর্মী রমেন্দ্র কুমার দে, সুনামগঞ্জে জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মতিউর রহমান পীর, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিতা রায়, জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আয়েশা আক্তার, শিক্ষার্থী ঋতুরাজ তালুকদার প্রমুখ।
আলোচনায় মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী নারী সমাজের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ফলে জাতি সংঘ নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এটি একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এই কর্মপরিকল্পনা ধরেই নারীর মানবাধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে। বেইজিং ঘোষণায় নারীর অগ্রগতির পথে যে ১২টি প্রতিবন্ধক চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর পর্যালোচনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সর্বস্তরে আলোচনা প্রয়োজন। মানুষের মতামত ও পরামর্শকে ধরের ভবিষ্যতে কাজ করতে হবে।