আকরাম উদ্দিন
দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেষ্টিত এবং সুবিশাল এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া শামসুদ্দিন-সিকন্দর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পেছনে মরা সুরমা নামে পরিচিত দীর্ঘ খাল। খালের দুইপাড়ে নলখাগড়া ও গাছ-গাছালির নজরকাড়া হাতছানি। খালের স্বচ্ছ পানিতে মাছের অভয়াশ্রম। সিকি কিলোমিটার দূরে কাইমা গ্রামীণ বাজার। পাথারিয়া-দিরাই সড়কের পাশে কর্ণগাঁও পয়েন্ট হয়ে কালিয়াগোটা হাওরপাড়ের গ্রামীণ সড়কে এগিয়ে গচিয়া গ্রামে এই বিদ্যালয়ের অবস্থান। দৃষ্টিনন্দন গেইটের প্রবেশ পথে ডানে বড় আকারের একটি পুকুর। পুকুরপাড় ও বিদ্যালয়ের পেছনে সারি সারি গাছ। আছে পাখপাখালির কিচিরমিচির গানের মন মাতানো সুর। বিদ্যালয়ের পূর্বদিকে সুবিশাল
খেলার মাঠ, সামনে আরেকটি ছোট আকারের খেলার মাঠ। আছে শহীদ মিনার। পুরো আঙিনায় সুনসান নিরবতা এবং শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক বিদ্যালয়ে গেলে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাও. সুফিয়ান আহমদ ও আলী আহমদ খান প্রতিটি ভবন ও শ্রেণী কক্ষ ঘুরে ঘুরে দেখান এবং নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, ১৯৮৫ সালে ৫ একর ১০ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত গচিয়া শামসুদ্দিন-সিকন্দর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আধা-পাকা টিনশেড ভবন ২টি। ২০১৫ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ১টি পাকা ভবন নির্মাণ করে দেয়। নতুন ও পুরাতন ভবন মিলে শ্রেণী কক্ষ আছে ৫টি। প্রায় ৬ শত শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণী কক্ষ প্রয়োজন আরও ৩টি। বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১০ জন, কর্মচারী আছেন ৪ জন। গত এসএসসি পরীক্ষায় ৭২জন অংশ নেয়। পাশ করে ৪৪ জন। ফলাফলে পাশের হার ছিল ৬১%। জিপিএ-৫ ছিল ১টি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক লাভলী চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক জয়নাল আবেদীন, বিধুভূষণ বিশ্বাস, শিক্ষক প্রণব কান্তি দাস, আতিকুর রহমান, শিপলু চন্দ্র সরকার, প্রীতি রাণী নাথ, আশিকুর রহমান, আশীষ কুমার মন্ডল। এছাড়া সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাগর কান্তি রায়, অফিস সহকারী সুরুজ আলী খান, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী আছেন পুতুল চন্দ্র দাস ও আলী আমজদ। গচিয়া শামসুদ্দিন-সিকন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে আনোয়ারপুর, দলুয়া, মধুপুর, কাইমা, খেজাউড়া, খাজাউড়া, জকিনগর, জটিচর, গচিয়াসহ ১০টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে আসছেন বলে জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনশেড ভবনের টিনের চাল দিয়ে কয়েকটি শ্রেণী কক্ষে বৃষ্টির দিনে পানি ঝরে পড়ে। ছাদের বিভিন্ন স্থানে চাটাইয়ের সিলিং ভাঙা। কয়েক স্থানে ফ্লোর ভাঙা। নতুন পাকা ভবনের বারান্দার ফ্লোর ভাঙা। আছে ৫টি শ্রেণী কক্ষের আসবাবপত্র সংকট। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নেই। গভীর নলকূপ নেই। সাধারণ নলকূপে মাঝে মধ্যে পানি উঠে না। বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নেই। বড় খেলার মাঠে মাটি ভরাট নেই বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলন রায় তালুকদার।
শিক্ষার্থী অলিউর রহমান সালমান ও ঝুমা পুরকায়স্থ বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক না থাকায় নানা সমস্যায় ভুগছি। খেলার মাঠে মাটি ভরাট না থাকায় বর্ষায় পানি জমে থাকে। এই কারণে খেলাধূলা করতে পারি না। এসব সমস্যা সমাধানের দাবি আমাদের।’
অভিভাবক রফিকুল ইসলাম ও আঙ্গুরা বেগম বলেন,‘শামসুদ্দিন-সিকন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের আরেকটি পাকা ভবন নির্মাণ হলে শ্রেণী কক্ষের সংকট নিরসন হবে। বিদ্যালয়ের চারিদিকে পাকা সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থী নিরাপত্তার বিঘœ ঘটছে।’
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ে নানা সমস্যা আছে। শ্রেণী কক্ষ সংকট থাকায় শিক্ষার্থীর আসন সংকুলান হচ্ছে না। লাইব্রেরির ভবন নির্মাণ ও খেলার মাঠে মাটি ভরাট জরুরি প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলন রায় তালুকদার জানান, শামসুদ্দিন-সিকন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভাল আছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থী বাড়ছে। আসন সংকট থাকায় ভর্তি করতে পারছি না। বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ ও আসবাবপত্র সংকট আছে। শিক্ষার অগ্রগতিতে এই বিদ্যালয়ের সকল সমস্যা সমাধান জরুরি প্রয়োজন।


