সোহানুর রহমান সোহান
মাথার উপর প্রখর রোদ। রোদ থেকে বাঁচতে কেউ গামছা কিংবা কেউ মাথাল মাথায় কাটছেন ধান। মাথার ঘাম বেয়ে টপটপ করে ঝড়ছে নাক দিয়ে। এমন তীব্র গরমেও ঝলমলে হাসি কৃষকের মুখে। ধানের বাম্পার ফলনে খুশী কৃষক। একই সাথে আবহাওয়া ভালো থাকায় স্বস্তিতে কাটা যাচ্ছে ধান। গত কয়েক বছর ধরে এমন সোনার বৈশাখ পাননি সুনামগঞ্জের কৃষকরা। তাই হাওরে এখন ধান কাটার ধুম চলছে।
কৃষকরা জানান ফলন এবং অনুকূল আবহাওয়ায় এবছরের মতো স্বস্তির বৈশাখ খুব কমই দেখেছেন তারা। অন্যান্য বছর বৈশাখে ঝড় বৃষ্টির হানায় কাটা যেতো না ধান। কোনোমতে ধান কাটলেও বৃষ্টির জন্য ধান মাড়াই ও শুকাতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। পর্যাপ্ত রোদের অভাবে খলায় ফেলা যেত না ধান। যেদিন রোদ উঠতো সবাই পাগল হয়ে ধান শুকাতে দিত। যার কারণে ধান শুকানোর জায়গা মেলানোই কঠিন হতো। খলায় দীর্ঘদিন বৃষ্টিতে ভিজে ধানে চার বের হয়ে যেত। তবে এবছর আবহাওয়া কৃষকের অনুকুলে থাকায় ধান কাটা থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। ধান কেটে মাড়াইয়ের পর রোদে এক দু’দিনেই ধান শুকিয়ে ঘরে তোলা যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ঝাউয়ার হাওরে শ্রমিক আমির উদ্দিন বলেন, ১০-১২ দিন যাবৎ আমরা ২৫ জনের একটি দল হাওরে ধান কাটতেছি। হাওরে এতো ফসল দেখে ধান কাটতেও ভালো লাগে। যতদিন হাওরে ধান আছে আমরাও আছি।
মো. রানা মিয়া বলেন, ২০১৭ সাল থেকে হাওরে ধান কাটি। প্রত্যেক বছর মেঘ-বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে কষ্ট হয় আমাদের। বৃষ্টির মধ্যে কোমর পানিতে নেমে ধান কেটেছি। এবারের মতো ভালো বৈশাখ কোনো বছর পাইনি। এবছর ধান কাটায় কোনো বৃষ্টি নাই, ফলনও ভালো।
কৃষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমার জীবনেও আমি এরকম ভালো ফসল হতে দেখিনি। এমন সোনার ফসল কাটতেও শান্তি লাগে।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলার কৃষক সুহেল মিয়া বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোদ থাকায় ধান কাটায় ঝামেলাও নাই। আমরা আনন্দের সাথে ফসল ঘরে তুলছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, এবছর নির্বিঘেœ কৃষক ধান কাটছেন। শুধু কাটা না, সাথে সাথে ধান শুকিয়ে ঘরেও তুলতে পারছেন। ইতোমধ্যে পুরো জেলায় ৭৪ শতাংশ ধান কর্তন হয়ে গেছে। আবহাওয়ার খারাপ কোনো পূর্ভাবাস এখনো পাইনি। শুধু মাঝে একদিন ঝড়ে বজ্রাঘাতে আমার ৬ কৃষক মারা গেছেন। এভাবে আবহাওয়া অনুকুল থাকলে আর কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ ধান ঘরে উঠবে।
- জায়গা দখলের অভিযোগে মানববন্ধন
- আব্দুস সামাদ আজাদ’র মৃত্যুবার্ষিকীতে বক্তারা/‘মানুষের কল্যাণ রাজনীতি করেছেন তিনি’


