মাদ্রাসায় সরকার বিরোধী প্রচারণা ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
ছাতকের চরমহল্লা ইউনিয়নের খরিদিচর গ্রামের বাসিন্দা জামায়াতের নেতা খরিদিচর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী আ.ক.ম. নুরুল হুদাসহ তার চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরকার ও আন্তজার্তিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিরোধী প্রচার-প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ক্বেরাত প্রশিক্ষণের নামে মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব প্রচারণার প্রতিবাদ করায় গ্রামের বাসিন্দা এলাকার ইসলামপুর ইউনিয়নের বৈশাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনকে মারধর করেছে আ.ক.ম. নুরুল হুদাসহ তার চার ভাইরা। গত বুধবার বিকালে মাদ্রাসার কাছে এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পরদিন বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খরিদিচর গ্রামের বাসিন্দা জামায়াতের নেতা মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী আ.ক.ম. নুরুল হুদাসহ তার ভাইয়েরা গত বুধবার বিকালে মাদ্রাসা পয়েন্টে মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদ- নিয়ে সরকার বিরোধী লিফলেট বিলি করছিলেন। এসময় একই গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন সরকার বিরোধী প্রচারণায় বাধা দেন। এনিয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে নুরুল হুদা ও তার ভাইরা শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনকে মারধর করেন।
লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে জামায়াতের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ওই মাদ্রাসায় বাংলাদেশ ইত্তেহাদুল কুররা ক্বেরাত প্রশিক্ষণের নামে ছাত্র-ছাত্রীসহ কোমলমতি ছেলে মেয়েদেরকে জামায়াত ইসলামীর দাওয়াত ও জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত খরিদিচর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী আ.ক.ম. নুরুল হুদা বলেন,‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা সরকার বিরোধী কোন কাজে লিপ্ত নই। অভিযোগকারী পূর্ব বিরোধের জের ধরে এসব অভিযোগ করছেন। ঘটনার দিন আমার ছোট ভাইয়ের সাথে তার কথা কাটাকাটি ও সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। এর বেশী কিছু নয়।’
খরিদিচর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. আপ্তাব উদ্দিন আল ফারুক বলেন,‘ আমাদের মাদ্রাসায় কোন ধরনের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না। নুরুল হুদা সাহেব মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে ক্বেরাত প্রশিক্ষণ চালু করেছিলেন। পরে এখানে জামায়াতের লিফলেট বিলি করা হয় এমন অভিযোগ উঠায় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে মাদ্রাসা থেকে ক্বেরাত প্রশিক্ষণ সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন বলেন,‘অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। যেহেতু সরকার বিরোধী প্রচারণা ও মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক রয়েছে, তাদের আটক করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে তাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।’