মানবতার শত্রুদের প্রতিহত করুন

এবার ঝিনাইদহের সোনাইখালি গ্রামে ৭০ বছরের এক নিরীহ পুরোহিতকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। যথারীতি আমেরিকাভিত্তিক জঙ্গি পর্যবেক্ষণকারী অনলাইন পোর্টাল সাইট ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে এই হত্যাকা-ের সাথে ইসলামি জঙ্গী সংগঠন আইএস জড়িত। আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নামের যে বৃদ্ধ পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে তিনি নিতান্তই একজন অতিসাধারণ গুরুত্বহীন নাগরিক। এরকম ব্যক্তি কখনও কোন সংগঠনের হত্যাকা-ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন এমনটি কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করেন না। কিন্তু বাস্তবতা বড় বেশি নির্মম। স্বপ্নকেও হার মানায়। তাই নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিতে অথবা জনমনে সীমাহীন ত্রাস তৈরির জন্য দুর্বৃত্তরা এখন লক্ষবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনরকম বাছবিচার করছে না। তাঁরা একদিন কোন একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে মারবে। আরেকদিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী একজন ক্ষুদ্র দোকানদারকে মারবে। তাদের আসল কাজ হলো হত্যার বিভীষিকা ছড়িয়ে দেওয়া এই জনপদে। সত্যিই ওরা জনমনে ত্রাস তৈরিতে সফল হয়েছে। এখন কেউ বলতে পারেন না গুপ্ত ঘাতক কখন কার উপর চাপাতি তুলে। যারা ৭০ বছরের একজন অতিসাধারণ বৃদ্ধকে হত্যা করতে একবার চিন্তা করে না তাদের পৈশাচিকতার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার চিন্তা কী করে করবে অন্যরা? দেশ কি এরকম বর্বর গুপ্তঘাতকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে?
দেশ আজ ভীষণ রকমের একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কে কোন দিকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে আর কে কি প্রচার করে তার হিসাব মিলানো বড় কঠিন কাজ। বাংলাদেশের নিভৃত পল্লীতে কাপুরুষোচিত একটি হত্যাকা- ঘটার সাথে সাথে সুদূর আমেরিকার একটি অনলাইন পোর্টাল তোতা পাখির মতো এতে আইএস জড়িত থাকার কথা বলে দিচ্ছে, এ এক আশ্চর্য বিষয় বটে। মুড়ি মুড়কির মতো আইএসকে বিক্রি করতে পারলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে কে কোন সুবিধা পাবে এটি অনেকের জানা। তবে জানা নেই যে কথাটি সেটি হলো, আইএস নাই করুক বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে এই খুনগুলো করছে কে? এই হত্যাকা-গুলোর পিছনে দীর্ঘ পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, সমন্বয়, রিক্রুটিং, অর্থায়ণ, পৃষ্ঠপোষকতা ও বাস্তবায়নের বিষয় জড়িত আছে। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ এরকম কুকর্ম চালিয়ে যেতে পারে না। তাহলে এই যে দেশে একের পর এক ভিন্ন মতাবলম্বী থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষগুলো অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে তার পিছনে মাস্টার মাইন্ড কে? ধোঁয়াশাভাবে এরসাথে জামায়াত শিবির কিংবা দেশীয় জঙ্গীগোষ্ঠীির সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু পুরো পরিকল্পনার বিশদ বিবরণের ধারে কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। একটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বছরের পর বছর যাবৎ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বিঘেœ অপরাধকর্ম চালিয়ে যাবে এক অজানা শত্রুপক্ষ তা কোন কাজের কথা নয়।  রাজনীতির নগ্নখেলায় নীরিহ মানুষ বলির পাঠা হবেন আর কতকাল?
আদর্শ বড় কঠিন বিষয়। এর বাস্তবায়ন আরও কঠিন। পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট উন্মত্ততায় হায়েনার চাইতেও অধিক হিং¯্রতার মাধ্যমে কোন মহৎ আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়নি জগতে কোন কালে। ভবিষ্যতেও হবে না। মুর্খদের কবে এই বোধোদয় ঘটবে আর নীরিহরা আতংকের বন্দীত্ব থেকে মুক্তি পাবে কে জানে। তবে সাধারণ মানুষের এইসব পৈশাচিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। ব্যাপক গণপ্রতিরোধ শুরু হলে গুটি কয়েক হিং¯্র অপরাধী পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। আজ সারা দেশের প্রতিটি জনপদে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া জরুরি যে, যে অপশক্তি চাপাতির কোপে মানুষ মেরে কোন কিছু অর্জন করতে চায় ওরা মানবতার শত্রু। এই শত্রুদের যেখানে সম্ভব সেখানেই প্রতিহত করতে হবে।