বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালি রাবার ড্যামকে দেশের বৃহত্তম রাবার ড্যাম হিসাবে বলা হয়ে থাকে। দেশের বৃহত্তম এই ড্যামটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত পাথর, বালি ও রড ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয়রা বরাবরই নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিলেন। গত ৩ মার্চ এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের সেতুর ঢালাই কাজের সময় একটি স্পেন ধসে পড়েছে। স্পেন ধসে পড়ায় ৬ শ্রমিক আহতও হয়েছেন। নির্মাণকালে সেতুর স্পেনের ঢালাই ভেঙে পড়া থেকে নির্মাণ কাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ মানতে রাজী নন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি ও ঠিকাদার। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ ও তদারককারী কর্তৃপক্ষের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য থেকে একটি ধোয়াশা তৈরি হয় বটে তবে এতে বোর ফসলকে অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়াসে নির্মিত দেশের বৃহত্তম রাবার ড্যামটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি চরমভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আমাদের ছোট মগজের পক্ষে বুঝতে কষ্ট হয়, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যখন স্থানীয়রা নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন তখন বিএডিসি কেন ঠিকাদারকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেন? সেতুর স্পেন ভেঙে পড়া থেকে তো এটুকু বুঝা যায় কাজের কোথাও না কোথাও কিছুটা খামতি রয়েছেই। আর স্থানীয়রা যেহেতু এই প্রকল্পের সুফলভোগী হবেন তাই তারা এই প্রকল্প কাজ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। তারা কেন অহেতুক ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে যাবেন? আমরা মনে করি, এই রাবার ড্যাম নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের উপর একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিৎ। এক্ষেত্রে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। সেতুর একটি স্পেন ধসে গিয়ে আহত ৬ শ্রমিককে স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। এ্খানে ঠিকাদারের দায়িত্বশীল আচরণের প্রমাণ মিলেনি। তাছাড়া যেকোন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের কর্ম এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনত বাধ্যতামূলক। কিন্তু মিছাখালি রাবারড্যামে যে শ্রমিক সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না তা বুঝা যায় ভালভাবেই। ৬ শ্রমিক আহত হওয়ার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ঠিকাদার ও তদারকি প্রতিষ্ঠানকেই গ্রহণ করতে হবে। গণমাধ্যমসূত্র থেকে জানা যায়, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা আরেকটি মারাত্বক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। ঠিকাদারের কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন করলেই নাকি চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়। ঠিকাদার বা তার লোকজন এত সাহস পান কোথায়?
জানা যায় এই রাবার ড্যাম নির্মাণে সরকার প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ করছেন। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের জানুয়ারি মাসে। বিশ্বম্ভরপুরের প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিকে অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের ঝুঁকিমুক্ত করাই এই রাবার ড্যাম নির্মাণের মূল লক্ষ্য। কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে নির্মিত একটি বৃহত্তম প্রকল্পের বিষয়ে শুরু থেকেই নানা অভিযোগ উঠা একেবারেই অনভিপ্রেত। আরও অনভিপ্রেত যে, অভিযোগগুলোকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবজ্ঞার চোখে দেখে ঠিকাদারকে দায়মুক্ত করার প্রচেষ্টা। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর উপর ঠিকাদারের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থের নিরিখে বিবেচনা করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই। একই সাথে গত বৃহস্পতিবার সংঘটিত দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা বিধান, তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দান এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
- আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন
- তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন


