স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে জালিয়াতি করে ভুয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম সন্তোষ পাল (২০)। সে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের গুরেশপুর গ্রামের মৃত সাধন পালের ছেলে।
সিআইডি সুনামগঞ্জ অফিসের এস আই সুমন মালাকার বুধবার সন্ধ্যায় ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থেকে সন্তোষ পালকে গ্রেফতার করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ জোন এর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালেদ মিয়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার দায় স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত সন্তোষ পাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এস.আই সুমন মালাকার বলেন,‘সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়, সে দোয়ারাবাজারে গুরেশপুরের সাধন পালের ছেলে। অথচ সে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাবিলাখাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছে। এই ঘটনায় সন্তোষ পালকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জাবনবন্দীতে সন্তোষ পাল বলেছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান ও কাবিলাখাই গ্রামের অপু পালের সহায়তায় এই কাজ করেছে এবং তাদের দুইজনকেই সে ভাতার অংশ দিয়েছে।’
জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের পরিমল পাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন (ভারতীয় তালিকা নম্বর-২৪৪৩৯)। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর তিনি ও তার দুই ভাই ভারতে চলে যান। বাংলাদেশে পরিমল পালের স্ত্রী, সন্তান কেউ নেই। কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরেশপুরের সাধন পালের ছেলে সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করে। সন্তোষ পালের মা রেনু বালা পাল জীবিত থাকলেও উত্তরাধিকার সনদপত্রে মাকে সে মৃত দেখিয়ে অন্যের ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাত করে। এ কাজে সন্তোষ পালকে সহায়তা ও উত্তোলিত ভাতার অংশ ভাগ করে নেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান ও কাবিলাখাই গ্রামের বাসিন্দা অপু পাল।
এ ঘটনায় কাবিলাখাইয়ের পার্শ্ববর্তী সলফ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গেদা আলীর ছেলে ইসমাইল আলী গত বছরের ১৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এরপর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সন্তোষ পালের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন ইসমাইল আলী। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন সুনামগঞ্জের সিআইডি।
অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান বলেন,‘আমি সন্তোষ পালের কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। তাকে ভাল করে চিনিই না। সে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশান সনদ নিয়ে টাকা তোলেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আগে সমাজসেবা তদন্ত করেছে, সে সময় তো আমার কথা বলেনি সে।’
- বাস্তুভিটাহীন শহীদ আরশ আলীর পরিবার
- শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- পরিকল্পনামন্ত্রী


