মেট্রোরেল নির্মাণ জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনতে হবে

বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সেই সময়সীমা এগিয়ে আনা হয়েছে। এখন ২০১৯ সাল নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত শেষ হবে মেট্রোরেলের কাজ। প্রকল্প পরিচালক অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মেট্রোরেলের কাজ শেষ হবে।
যানজটে ঢাকা মহানগরী পর্যুদস্তু হয়ে পড়েছে। নগরীতে দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যাও। আধা ঘণ্টার রাস্তা যেতে সময় লেগে যায় তিন-চার ঘণ্টা। যানজটের এই ভয়াবহ চিত্র সারা বছরই প্রায় একই রকম। সরকারের একটি পরিবহন সংস্থা আছে, কিন্তু সেটি গণপরিবহনে যেটুকু অবদান রাখার কথা সেটা পারছে না। এই সুযোগে বেসরকারি গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বেসরকারি বাসমালিকদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। এদের আইনানুগভাবে পরিচালনার উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় না। শহরে অনুমোদনহীন গাড়ি যখন চলে, চালকদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যারা এসব নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তারা মাঝে মাঝে অভিযান চালায় ঠিকই, কিন্তু এসব অভিযানের ধারাবাহিকতা না-থাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ, ফিটনেসহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। চালকদের দক্ষতাও হেলাফেলার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে নগরীর বাসযাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। নগরীতে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীরা মূল সড়কে নেমে আসে। তখন যানজট যেমন তৈরি হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়। মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থা অধিকতর নিরাপদ, দ্রুততর ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্দেশ্যে মেট্রোরেলের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মেট্রোরেল চালু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছানো যাবে মাত্র ৩৮ মিনিটে। শহরের রাস্তায় শুধু যানের সংখ্যাই কমবে না, বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণও অনেক কমে যাবে। বিপুল সংখ্যক যাত্রী কম সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে বলে নগরীতে বাস চলাচল কমে যাবে, ব্যক্তিগত গাড়িও কমবে। ফলে যানজট অবশ্যই কমে আসবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পটি একটি বড় প্রকল্প। দেশে এ ধরনের প্রকল্প এটাই প্রথম। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা প্রতিকূলতা থাকে। সাফল্য পেতে হলে সব প্রতিকূলতা উজিয়েই আসতে হয়। আমরা প্রত্যাশা করি, মেট্রোরেল প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয়ে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় যথাযথ অবদান রাখবে। মেট্রোরেল রাস্তার মাঝ বরাবর ওপর দিয়ে চলবে। ঢাকা নগরীতে রাস্তার মাঝ বরাবর ওপর দিয়ে কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে এবং কয়েকটির নির্মাণকাজ চলছে। এগুলো নির্মাণের সময় নগরবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের সময় সেই দুর্ভোগের সৃষ্টি হবে। তবে বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্টরা যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন তা হলে দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব। মেট্রোরেলের মতো ২০.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রুটে কাজের সময় শহরের একটা বড় অংশই এর আওতায় পড়বে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় থাকতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনা যায়।