শহীদ নূর আহমেদ
আজ থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ইতোমধ্যে পূজাম-পে প্রতিমা স্থাপন থেকে শুরু করে পূজার আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করেছেন জেলা উপজেলার পূজা আয়োজকরা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও জেলা
পুলিশের তথ্য মতে এবারের পূজায় জেলার ৩৪৩টি পূজাম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ টি (পৌরসভা ব্যতিত) , সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ২৩টি , জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ টি. পৌরসভায় ৫টি, দিরাই উপজেলায় ৪৪ টি ও পৌরশহরে ৬টি, ছাতক উপজেলায় ১৯ টি ও পৌরসভায় ১২ টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ২৩ টি, জামালগঞ্জে ৪৩টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৩ টি, শাল্লায় ২৪টি, তাহিরপুরে ২৫ টি, দোয়ারাবাজারে ১৭টি, ধর্মপাশায় ১৫টি, মধ্যনগরে ২৭ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজাকে সামনে রেখে পূজাম-প ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে জেলা পুলিশ, র্যাব ও আনসার । পুলিশের বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা শাখা চেকপোস্ট, পিকেট, মোবাইল, স্ট্যান্ডবাই ফোর্স ইত্যাদির মাধ্যমে পুজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এ কাজে প্রায় ৭শ’ এর বেশি পুলিশ নিয়োজিত থাকবেন। কয়েকটি নিয়মিত টহলে থাকবে প্রায় অর্ধশতাধিক র্যাব। তাছাড়াও পূজাম-প এলাকায় সাদা পোশাকে থাকবে র্যাবের বিশেষ টিম। এছাড়াও পূজা ম-প এলাকায় শান্তি শৃখলার দায়িত্বে থাকবে ২ হাজারেরও অধিক আনসার। দুর্গা পূজার দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন এলাকায়ও পুলিশের ও র্যাবের নজর দারি থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সদর উপজেলা ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা এবং অন্য তিনটি পৌর এলাকায় রাত ৮ টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অপরদিকে অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে পূজা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নৃপেশ তালুকদার নানু বলেন, দুর্গা পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় পুজা। এবার জেলায় প্রায় ৩৪৩টি পূজা ম-পে পূজা উদযাপন হবে। । ইতোমধ্যে পূজা ম-পে প্রতিমা স্থাপন থেকে শুরু করে পূজা উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন। বরাবরের মতো পূজাম-প ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনের আন্তরিকতার কমতি নেই । আশা করছি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারবো।
র্যাব ব্যাটেলিয়ান-৯ এর কমান্ডার লে. কমান্ডার ফয়সল আহমদ বলেন, পূজা উদযাপনে নিরাপত্তা জোরদার রাখতে র্যাব সচেষ্ট আছে। অতিরিক্ত নজরদারি বৃদ্ধিতে পূজাম-প এলাকায় নিয়মিত ও বিশেষ টিমসহ র্যাবের প্রায় ৮০জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বিরা যাতে নিরাপদে পূজা উদযাপন করতে পারেন সেই লক্ষে এবার জেলার সকল পূজাম-পে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জেলাব্যাপী প্রায় ৭ শতাধিক পুলিশ নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবে। পূজামন্ডপ এলাকায় পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে। আশা করছি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বিরা পূজা উদযাপন করতে পারবেন।


