স্টাফ রিপোর্টার
উমা থেকে পার্বতি। তারপর পার্বতি থেকে দুর্গা। এই নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে, তিনি গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা ও পর্বতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তাই তিনি পার্বতী। পরের অধ্যায়ে তিনি হয়ে উঠেন দানবদলনী দশভূজা। আর তখনিই তার নাম হয় দুর্গা। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বী সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের এ উৎসব। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসবের।
দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয় দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামে অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।
এদিকে পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ম-প। দেবীর অবস্থানকালে এই পাঁচদিন পৃথিবীর ভক্তরা ‘দেবী মা’-এর বন্দনা করেন। তারপর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে মাকে বরণ করে নেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, বোধনেই মায়ের মুখ উন্মোচন হয়।
দুর্গোৎসব চলাকালে পূজাম-পগুলোতে প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, ভোগ ও আরতি অনুষ্ঠান হবে। এ ছাড়া আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


