যত প্রাপ্তি যত অপ্রাপ্তি

সজীব দে
আগামীকালের সূর্যাস্তের পর অতীত হবে ঘটনাবহুল বছল ২০১৭। প্রাপ্তির আনন্দ যেমন আছে তেমনি আছে অপ্রাপ্তির বেদনাও। বছরের আলোচিত ঘটনাসমূহ নিশ্চয়ই প্রভাবিত করবে নতুন বছরকেও। সবক্ষেত্রে সাফল্য না এলেও প্রাপ্তির খাতা একেবারে শূন্য ছিল না। নানা ঘটনায় আলোচিত সমালেচিত বছর ফুরিয়ে এসেছে। গত হতে যাওয়া বছরের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির সেই উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো দেখার ইচ্ছে হতেই পারে। তাই নিয়ে আজকের সালতামামি।

উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, সদর উপজেলার মদনপুরে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতালসহ মেডিকেল কলেজ, শহরতরীর কুতুবপুরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন। সিলেট বিভাগের বৃহৎ রানীগঞ্জ সেতুর কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে। এই সেতু’র কাজ শেষ হলে জেলাবাসীর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব কমবে ৫২ কিলোমিটার। ২২ ফুট প্রশস্ত হবে পাগলা রানীগঞ্জ সড়ক।
এছাড়াও মধ্যনগর-মহেষখলা সড়কের সুমেশ্বরী নদীর উপর ২০০ মিটার সেতু, মধ্যনগরবাজার সংলগ্ন উবদাখালি নদীর উপর ৩০০ মিটার সেতু, জয়শ্রী-গোলকপুর সড়কে জয়শ্রী বাজার সংলগ্ন বুরাইয়া নদীর উপর ৩০০ মিটার সেতু, গোলকপুর-সাচনাবাজার সড়কের বৌলাই নদীর উপর ৩০০ মিটার সেতু, দিরাই-ধল-মার্কুলি সড়কে কাজুয়া নদীর (মরা কুশিয়ারা) উপর ৩০৮ মিটার সেতু, মহেষখলা- টেকেরঘাট-লাউড়েরগড় সড়কে যাদুকাটা নদীর উপর ৭৫০ মিটার সেতু, বাদাঘাট-কাউকান্দি-টেকেরঘাট সড়কের ডাম্পেরবাজার সংলগ্ন পাটলাই  নদীর উপর ৪০০ মিটার সেতু, ছাতক উপজেলার মঙ্গলপুর বাজার সংলগ্ন আনুজানি সড়কে চেলা নদীর উপর ৪৫ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাস্তবায়িত হবে। তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি এলাকায় যাদুকাটা নদীর উপর ৭৫০ মিটার লম্বা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু নির্মাণের দরপত্র আহবান করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। বাস্তবায়িত হলে ধর্মপাশা-মধ্যনগর, মহেশখলা, টেকেরঘাট, লাউড়-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ শহরতলির ওয়েজখালিতে (চেকনিখাড়া সেতুর পাশে)  নির্মিতব্য পাওয়ার গ্রীড স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। জানুয়ারিতেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তে হবে না সুনামগঞ্জবাসীকে। তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ২২ হাজার গ্রাহকের সুবিধায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তাহিরপুরে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ৮ তলা  ভবনের কাজ শেষ হবে নতুন বছর। শহরের মল্লিকপুরে হচ্ছে ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভবন। আইন শৃঙ্খলা ও পুলিশ বিভাগের সার্বিক কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনতে গত মার্চ মাসে জেলার ১২ টি থানাকে ৬টি সার্কেলে বিভক্ত করা হয়।
‘সুনামগঞ্জ, দি ডটার অব হাওর’ হাওরকন্যা নামে ব্রান্ডিং হচ্ছে সুনামগঞ্জের লোকসংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্প।

অনেক সাফল্য ও সুখবরের মধ্যে অপ্রাপ্তিও আছে। কাজ শুরু হয়নি ধর্মপাশায় দেশের বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের। অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। হাওর উন্নয়ন অধিদপ্তর-উদ্বোধনের দুই বছর পরও শুরু হয়নি কার্যক্রম। টেকেরঘাট চুনাপাথর প্রকল্প হতে ১৬ কোটি টাকার সম্পদ লুট।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কের সব বেইলি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা, নির্মাণের এক বছরের মাথায় ভেঙ্গে গেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মহাসিং নদী তীরের ছয়হারা বোট ল্যান্ডিং ঘাট, সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজার সড়কের বেহাল অবস্থা, ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে দুর্ভোগ, জামালগঞ্জে বছর না ঘুরতেই হিলিপ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামোয় ভাঙন, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কে নির্মাণের দেড় মাসের মাথায় ভাঙ্গন, উদ্বোধনের আগেই ভেঙে যায় জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর-হামিদপুর গ্রামের অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ডের বেহাল দশা, দিরাইয়ে সড়কের ওপর বাসষ্ট্যান্ড, ধর্মপাশায় ব্রিজ-সড়ক দখল করে স্ট্যান্ড, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তি মদনপুর-দিরাই সড়কে, ছাতকের সিংচাপইড়-পালপুর সড়ক। ইউনিয়নের সবকটি সড়কই রয়েছে ভাঙা-চোরা অবস্থায়।
জেলার শিক্ষক সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। খন্ডকালীন শিক্ষকে চলছে বেসরকারি স্কুল-কলেজ।
নদী ভাঙ্গনের কবলে দোয়ারাবাজার উপজেলা। ছাতকের চেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ধনীটিলায় পাথর খেকোদের আগ্রাসন। বিশ্বম্ভরপুরে মরা জাদুকাটা নদী খননে অনিয়ম এবং বনখেকো চক্রের কবলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল করচ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি।