যুক্তরাজ্য বিএনপিতে কোন্দল.. সভায় হাতাহাতি, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

লন্ডন প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্য বিএনপিতে পদপদবী ও ফান্ড নিয়ে কোন্দল ক্রমশ প্রকট আকার ধারণ করছে। রয়েছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। এনিয়ে গেল ২৪ আগস্ট সভা চলাকালে কমিটির হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিবাদমান দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও গেল ৩১ আগস্ট বিএনপির প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর আলোচনা সভায় আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
জানা যায়, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদের বিরুদ্ধে একপক্ষ ২ লক্ষ ৬০ হাজার পাউন্ড তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উত্থাপন করলে সভা চলাকালে উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির  কয়েকজন সিনিয়র সদস্য সম্পাদকের  বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য বিএনপির মালিক-কয়ছর এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি অনুমোদনের পর থেকে নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পড়েন দুই বারের সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। যেহেতু আগের কমিটি থাকা অবস্থায় জোনাল কমিটি থেকে চাঁদা সংগ্রহের কোন হিসাব দেয়া হয়নি তাই আদায়কৃত চাঁদা নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তরের দাবিতে সোচ্চার হয় যুক্তরাজ্য বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী। ব্যাপক চাপের মুখে কয়ছর এম আহমেদ ওয়াদা করেন প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তার হিসাব প্রদান করবেন।
কমিটির একজন সদস্য জানান, শুধুমাত্র আগের কমিটির হিসাব নেয়ার উদ্দেশ্যেই প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকতে সভাপতিকে বাধ্য করেন কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী। কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় কয়ছর আহমেদ বিগত কমিটির ২ বছরের হিসাব উপস্থাপন করেন।
কয়ছর আহমদ দুই বছরের হিসাব দিতে গিয়ে বলেন,‘আমরা বিগত দুইবছরে কমিটি থেকে সর্বমোট ১৮৪০০ পাউন্ড চাঁদা আদায় করতে সমর্থ হয়েছি। ৪০,০০০ পাউন্ড জোনাল কমিটির চাঁদা। ৪০০০ পাউন্ড বাৎসরিক চাঁদা। সর্বমোট  ৬২৪০০ পাউন্ড চাঁদা আদায় করেছি। খরচ করেছি সর্বমোট  ১১৩০০০ পাউন্ড। ঘাটতি ছিল ৫২০০০ পাউন্ড।’
ঘাটতির ব্যয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তারা ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন বলেও তিনি উপস্থিত সদস্যদের জানান।  তার এই হিসাব সঠিক হয়নি বলে কমিটির অন্য সদস্যরা হাত তুলে  এর প্রতিবাদ করেন।
সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই হিসাব আমরা মানতে পারছি না। হিসাবের মধ্যে ব্যাপক গড়মিল আছে, আমি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দাবি করছি।
কমিটির আরেক সদস্য সভায় উপস্থিত সবার সামনে আয় ও ব্যয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানকে নিয়ে মোট সভা হয়েছে ১৩টি। প্রতিটি সভায় যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দল ৩০০ থেকে  ৫০০ পাউন্ড চাঁদা দিয়েছে। সেচ্ছাসেবক দল ২ বছরে মোট চাঁদা দিয়েছে ৪৩০০ পাউন্ড। পাশাপাশি অফিসের ভাড়াবাবদ দিয়েছে প্রতি মাসে ১০০ পাউন্ড করে মোট ২৪০০ পাউন্ড। সর্বমোট ৬৭০০ পাউন্ড। লন্ডনে বিএনপি ধারার প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট ও নেতৃবৃন্দও বিভিন্নসময়ে নিয়মিতভাবে মোটা অংকের চাঁদা দিয়েছেন।
তিনি বিস্তারিত হিসাব পেশ করে ১৭৫০০০ পাউন্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন প্রকাশ্যেই।
আয় ব্যায়ের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে ব্যর্থ হলে এবং কমিটির পক্ষ থেকে আয়ের সঠিক তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হলে আগের কমিটির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী উপস্থিত না থাকাতে পরবর্তী ইসি মিটিং এর দিন পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব বুঝিয়ে  দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন কয়ছর এম আহমেদ। পরবর্তী ইসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ২৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সাবেক সভাপতিকে সভায়  উপস্থিত করাতে পারেননি।