মাও. এমদাদুল হক
রমজানের প্রথম দশ দিন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। যারা বেঁচে থাকবেন, তাঁরা আগামী রমজানে আবারও ফিরে পাবেন পবিত্র মাহে রমজান। হাদীস শরীফে আছে, প্রথম দশ দিন রহমতের, ২য় দশ দিন মাগফেরাতের, ৩য় দশ দিন নাযাতের। এই হিসাবে আমাদের কাছ থেকে রহমতের দশ দিন চলে গেল।
রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত শুরু হলে রোজাদার যখন রমজানের সঠিক হক আদায় করে, সময় মতো সেহেরী খায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তারাবির নামাজ আদায় করে, হালাল খাবার দিয়ে সেহরী ও ইফতার করে, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ছেড়ে দেয়, কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয় না। কারো হক নষ্ট করে না, কাউকেও গালি দেয় না, হাত দিয়ে বা মুখ দিয়ে কোনো মানুষকে আঘাত করে না, তার জন্য প্রথম দশ দিনের রহমত ত্রিশদিন পর্যন্ত অবধারিত থাকে।
আমরা শবে বরাতের রাতে তওবা করেছি, গুনাহ আর করব না। কিন্তু আমি সুদখোর সুদ ছাড়ি না, সুদের টাকার জন্য মানুষের উপর জুলুম-অত্যাচার করি, অপমান করি, ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করি না, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের টাকা আদায় করার চেষ্টা করি। রোজা না রেখেও রোজা রাখার ভান করি। ইফতারের সময় হাঁক ডাক দিয়ে ইফতারীর আয়োজন করি, অন্যের কাছ থেকে জুলুম করে আদায় করা টাকা দিয়ে ফুর্তি করে ইফতার করি। এমনটি হওয়া উচিৎ নয়।
যদি এভাবেই করি, তাহলে আমরা কেমন রোজাদার। অনেক অফিসে প্রায় কর্মচারী নামাজ পড়ে রোজাও রাখে। কিন্তু ঘুষ ছাড়ে না। রোজা রেখে অফিস ফাঁকি দিলে যে পরিপূর্ণ রোজা হয় না তা একবারও চিন্তা করে না।
মনে রাখা উচিৎ, সরকার রাজস্ব থেকে কর্মচারীদের বেতন দেয় এবং অফিসে অবস্থানের নীতিমালাও দেয়। কিন্তু আপনি যদি ঘুষ খান, মানুষকে হয়রানী করেন, একদিনের কাজ দশদিন ঘুরান, রমজানেও তা পরিবর্ত করেন না, তাহলে আপনার রোজা শুদ্ধ হবে না। রোজার অঙ্গহানী হবে।
আল্লাহ বলেন, আমি সুদকে হারাম করেছি আর ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছি।Ñআল কুরআন। হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন মানুষের জন্য যে রিযিক রেখেছেন তাকে দশভাগে ভাগ করেছেন। ৯ ভাগ আর এক ভাগ চাকুরী নকরী ইত্যাদির মাধ্যমে। কিন্তু ঐ ব্যবসাকে আমরা সামান্য মুনাফার জন্য নষ্ট করে দেই। খাদ্যে ভেজাল দেই, মাছে, মাংসে, ফলে ও সবজিতে ফরমালিন দেই। আবার রমজানে রোজা রাখি। কোনো রোজাদার ব্যবসায়ী যদি এসব করে, তাহলে ব্যবসায় হারাম ঢুকবে রোজাও নষ্ট হবে। তাই রমজানের দাবি সকল বিষয়ে সংযমী হওয়া। সুদ ছেড়ে দেয়া, ঘুষ ছেড়ে দেয়া, কোন কাজে দুর্নীতি না করা, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা, কাউকে ধোকা না দেয়া।
লেখক: অধ্যক্ষ, হযরত খাদিজাতুল কুবরা ইসলামিয়া বালিকা মাদ্রাসা, সুনামগঞ্জ।
- প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়ক- কাজ হচ্ছে ধীরগতিতে
- ঈদ বাজার- ঈদের পোশাক ‘পাজিরাউ মাস্তানী’


