রমজানের আগেই অস্থির সবজি বাজার

স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র রমজানের একদিন আগেই সুনামগঞ্জে সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবজির দাম প্রকারভেদে কেজি প্রতি প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। তারা বলছেন, রোজাকে সামনে রেখে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টিপাতের কারণে বাজারে সবজির আমদানী কমায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরশহরের সবজি বাজার বুধবার সকালে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, করলা ১০০, বেগুন ৫০, গাজর ৫০-৬০, শসা ৫০- ৬০, টমেটো ৩০, সিম ৫০-৬০, মরিচ ১০০, ঢেঁরস ৮০ থেকে ১০০, জিঙা ১২০ ও সিসিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি ও ফুলকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, দু’দিন আগেও বাজারে ফুলকপি প্রতিপিস ১০ থেকে ২০, করলা ৫০, বেগুন ৩০, গাজর ৪০ ও শসা ২৫- ৩০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছে। অথচ রোজার আগেই সকল সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ক্রেতা এমএ মান্নান বলেন, সবজির দাম দিগুণ বেড়েছে। গতকাল প্রতিটি লেবুর দাম ছিলো ৫ টাকা, আজ ২০ টাকা হয়ে গেছে। সিম ছিলো ৩০ টাকা, আজ ৫০ টাকা কেজি ধরে কিনতে হচ্ছে।
জানিগাঁওয়ের বাসিন্দা ক্রেতা রহিমা বেগম বললেন, গতকাল বেগুনের দাম ছিলো ৩০, আজ ৫০ টাকা। এভাবে প্রতিটি সবজির দামই ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।
পশ্চিম হাজিপাড়ার বাসিন্দা ক্রেতা হেপি আক্তার বলেন, রোজার জন্য সবজির দাম বেড়েছে। প্রতিবছর রোজা এলেই ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়ায়। সে অনুযায়ী সবজির দাম বেড়েছে। এতে পরিবার নিয়ে চলতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। এজন্য বাজারে সবজি কম আসছে। এছাড়াও বৃষ্টির পানিতে কিছু সবজি ক্ষেত নষ্টও হয়েছে। একারণে চাহিদা মতো সবজি বাজারে আসছে না। এজন্য কিছুটা দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের সিন্ডিকেটের হাস্যকর কথাও জানালেন কোন কোন খুচরা ব্যবসায়ী।
খুচরা ব্যবসয়ী আতিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা সিন্ডিকেট করে সবজির দাম বাড়িয়েছে। সকালে আরতে যখন কিনতে যাই, তখন সবজি পাওয়া যায় না। কৃষকরা আরতে সবজি এনে লুকিয়ে রাখে। বেলা বাড়লে বেশি দামে সবজি বিক্রি করেন তারা। এজন্য দাম বাড়তি।
পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ফজর আলী বললেন, বৃষ্টির জন্য বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ক্ষেত থেকে কৃষকরা সবজি তুলতে পারছে না। এজন্য চাহিদা মতো বাজারে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সবজি চাষি মো. জাকির হোসেন জানালেন, তারা পাইকারি মূল্যে করলা ৭০, বেগুন ৩০, গাজর ৪০, শসা ২৫, ফুলকপি ১৫, টমেটো ১৫, সিম ২০, মরিচ ৫০, ঢেঁরস ২০ ও সিসিঙ্গা ৪০ টাকা ধরে কেজি বিক্রি করেন।
তিনি বললেন, কৃষকরা সিন্ডিকেট করে সবজির দাম বাড়ায় না। সবজির ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয় আমাদের। তবে এখন ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।
সুনামগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বললেন, পবিত্র রমজান মাস চলে এসেছে। এজন্য ক্রেতারা একসঙ্গে অনেক বাজার করছেন। বাজারে নির্ধারিত যোগানে চাহিদা বেশি হলে, দাম কিছু বেড়ে যায়। তবে আমরা চেষ্টা করছি দাম স্বাভাবিক রাখার। প্রতি দোকানীকে বলেছি মূল্য তালিকা রাখতে। প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।