লকডাউনের খবরে বাজারে মানুষের ঢল, সড়কে তীব্র জট

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ‘কঠোর’ লকডাউনের খবরে জগন্নাথপুরে হাটবাজারে মানুষের ঢল নেমেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় শহরে তীব্র যানজট লেগেই ছিল।
রবিবার সকাল থেকে উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর পৌরশহরের জগন্নাথপুর বাজারে লোকজনের ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বাজারে অবাধে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে পৌরশহরের স্থানীয় পৌর পয়েন্ট এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ লম্বা তীব্র যানজট দেখা যায় শহরের প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আঞ্চলিক মহাসড়কে। খাদ্য গুদামের পাশের নলজুর নদীর সেতুর পূর্বপাশ থেকে সেতুর পশ্চিম এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় মানুষজনকে। দিনের একাধিক সময় এমন অবস্থা দেখা গেছে।
এছাড়া শহরের সবজিবাজার, মাছের বাজারসহ নিত্য পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। পুরুষের পাশাপাশি নারী ক্রেতারে ঢল ছিল বেশি। বাজারে আসা ৯০ ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক ছিল না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অবাধে ঠেলাঠেলি করে চলাফেরা করছেন লোকজন।
শহরের জগন্নাথপুর পশ্চিম বাজারে এক নারী ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাজারে এসেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, সোমবার থেকে ‘কঠোর’ লকডাউন হচ্ছে শুনে সংসারের খরছপাতি কিনতে বাজারে এসেছি। লকডাউন হয়ে গেলে দুর্ভোগে পড়ব। কারণ শুনেছি, কোনধরনের যানবাহন চলবে না। এজন্যে বাজারে আসা। এখন শুনছি, বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন হবে।
মারজু নামে এক যুবক মুখে মাস্ক না ব্যবহার করে ভিড় ঠেলা হাঁটছিলেন। মারজু জানালেন, মাস্ক প্যান্টের পকেটে আছে। লকডাউন কবলে পড়ার আগেই সংসারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে এসেছি। প্রথমে শুনেছিলাম সোমবার থেকে এখন শুনছি, বৃহস্পতিবার শুরু হবে ‘কঠোর’ লকডাউন। তাই তারাহুড়া করে বাজারে এসেছি।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন জানান,অন্যদিনের তুলনায় গতকাল বাজারে মানুষের ভিড় ছিল বেশি। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাজারে স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতিকালে জগন্নাথপুরের মীরপুর ইউনিয়নের আটঘর গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে ২০ দিনের ব্যবধানে তিন জনের মৃতে্যুর ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামের ৫ টি বাড়ি লকডাউন করে গ্রামের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য সচেতনতামুলক প্রচারণা চালানো হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর বলেন, আটঘর গ্রামে করোনা উপসর্গের বিষয়টি নজরে এলে আমরা ৫টি পরিবার কে লকডাউন করেছি। তিনি জানান, জগন্নাথপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৪৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারমধ্যে সুস্থ আছেন ২৩৫, মৃত্যু বরণ করছেন ১ জন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা মাঠে কাজ করছি।