লক ডাউন আতঙ্কে ক্রেতাদের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
লক ডাউন আতঙ্কে শনিবার বিকাল থেকে রবিবার দিনব্যাপী বাজারে বেচাকেনা বেড়েছে। শহরের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবী রিক্সা বা অটোরিক্সা ভর্তি করে নিজের পরিবারের জন্য মালামাল কিনে নিতে দেখা গেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আগের দামেই কিনেছেন ক্রেতারা।
রবিবার শহরে বিভিন্ন স্থানে লোক সমাগম ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে তিনগুণ। এই কারণে দুপুরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ট্রাফিক পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট এলাকা ও থানার সামনে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছিল।
রবিবার সকালে জগন্নাথবাড়ি এলাকায় ভুষিমাল ও মুদিমালের দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ক্রেতারা নিজ পরিবারের জন্য রিক্সা ও অটোরিক্সা নিয়ে মালামাল কিনতে এসেছিলেন। গরম মসলার দোকানপাটেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। পান সুপারির বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। কোনো কোনো দোকানে দুপুরে সুপারিও পান সংকট দেখা দেয়।
শহরে সকল প্রকার সবজির মূল্য ৫-৭ টাকা করে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। মাছের বাজারে দাম ছিল চড়া। তবে ভুষিমালের দোকানে, মুদিমালের দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। পান সুপারির বাজারেও ছিল চড়া মূল্য। হঠাৎ করে ক্রেতাদের ভিড়ে বেচাকেনা হয়েছে খাদ্যজাত দ্রব্য।
ভুষিমাল ও মুদিমালের ব্যবসায়ী প্রাণেশ রায়, শ্যামল, আল হেলাল বলেন, শনিবার বিকাল থেকে ক্রেতাদের আগমন ব্যাপক হারে বেড়েছে। কিন্তু মালামালের দাম বাড়েনি। সকল প্রকার মালামাল দোকানে মওজুদ আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
পান সুপারি ব্যবসায়ী কাজল পাল ও সবুজ মিয়া বলেন, পান সুপারি মানুষে কিনে আমরাও বিক্রি করি। যে মাল বিক্রি করেছি তিন দিনে এই মাল একদিনে শেষ। আমাদের লাভও হয়েছে ভাল।
সবজি ব্যবসায়ী শাহ মো. আমিনুর রহমান বলেন, সামান্য দামে কিনেছি, সামান্য লাভে বিক্রি করেও দিয়েছি। প্রতিদিন মাল আসবে, বিক্রিও করব।
মাছের ব্যবসায়ী ফজল গফুর বলেন, তিনদিন ধরে মাছের বাজারে চড়ামূল্য। আজ রবিবার মাছ চড়ামূল্যে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে আসা সাজাউর রহমান বলেন, লক ডাউনের আতঙ্কে মানুষ ঋণ করে পরিবারের জন্য বাজার করেছে। লক ডাউন বাড়লে পরে কি হবে। এই জন্য আমি আমার নিত্যদিনের বাজার করেছি।
কৃষক নেতা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, যারা চাকুরিজীবী, যারা ব্যবসায়ী তাদের টাকা আছে। লক ডাউনের প্রতিদিন বাসায় আরামে থাকবে এবং দৈনন্দিন খাবার ফেইসবুকে ছড়াবে। আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের তো আহা-মরি কিছু নেই। দিনমজুর শ্রেণীর মানুষের কথাও ভাবতে হবে। সংকটে প্রতিবেশির পাশে দাঁড়ানো সকলের প্রয়োজন।