শতবর্ষী মুক্তিযোদ্ধা জননী ফুলবানুর কান্না থামেনি

মোসাইদ রাহাত
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু। বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে যুদ্ধে যাওয়া ২২ বছর বয়সি নুরুল ইসলাম যুদ্ধের সময় একবার মাকে দেখতে এসেছিলেন। পরে আর মায়ের কোলে ফিরেন নি তিনি। আজও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা ফুলবানু ছেলের জন্য কাঁদেন। শতবর্ষী এই নারী এখন শয্যাশায়ী। খাওয়া, গোসল সবকিছুই এখন বিছানায় করাতে হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ দিরাই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রফিনগরে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মাকে দেখতে যান।
এসময় ফুলবানু কান্নায় ভেঙে পড়েন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ উনাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধার মা ফুলবানুকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন এবং তার জন্য নিয়ে আসা বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও তুলে দেন।
সুনামগঞ্জের ডলুরা শহীদ সমাধি সৌধে ৪৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৮ নম্বর স্মৃতিস্তম্ভ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু’র ।
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, বাবা-মায়ের আদরের সন্তান ছিলেন মেঝ ভাই নুরুল ইসলাম। আমাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শিক্ষিত। সুনামগঞ্জের সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে তরুণরা যখন যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য ট্রেনিংয়ে যাওয়া শুরু করেন আমার ভাইও যুদ্ধে অংশ নেবার জন্য তখন বালাটে চলে যান। একবার বালাট থেকে বাড়ি এসেছিলেন এরপর আর কেউ দেখে নি তাঁকে। মায়ের বয়স ১১০ বছর, এখনো ভাইয়ের কথা মনে হলেই কাঁদেন।
ভাইয়ের ভাতার টাকায়ই মায়ের চিকিৎসা চলে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্যের জমি চাষাবাদ (বর্গাচাষ) করে যা ফসল পাই তা দিয়ে সংসার চলে।
আমিনুল ইসলাম জানালেন, তাঁর শহীদ ভাইয়ের বন্ধু কাউকে দেখলে, কিংবা মুক্তিযুদ্ধের কথা ওঠলেই মা কাঁদতে থাকেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা বেঁচে আছেন জেনে তাঁর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ তৈরি হয় এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেই তাঁকে দেখা ও সম্মান জানানোর জন্য সেখানে যাই।