শনাক্তে নতুন রেকর্ড- ১৩ দিনে ৩৫৩ জন আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়ে চলা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্তের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রথম একজন করোনায় আক্রান্ত হন। প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ৪৩ তম দিনে গত ২৫ মে করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭ জনে। ্এরপর ৩১ মে করোনায় আক্রান্ত হন ২১ জন। আক্রান্ত ১৫০ ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় ১৬৫ জনে। ৮ দিনের মাথায় ২ জুন করোনা শনাক্তের ৫১ তম দিনে ৩৯ জন আক্রান্ত নিয়ে ২০০ পার করে শনাক্তের সংখ্যা। ৫ জুন ২৫০ অতিক্রম করে করোনা শনাক্ত। ২৩ জন শনাক্ত নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ২৭০ জনে। এরপর ৫ দিনের মাথায় ৭ জুন করোনা শনাক্তের ৫৬ তম দিনে ৩৪ জন আক্রান্ত নিয়ে ৩০০ ছাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। ৯ জুন ২১ জন আক্রান্ত নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫০ জনে। ১০ জুন আক্রান্ত হন ৪৬ জন। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৩৯৬ জনে। এর ৪ দিনের মাথায় ১১ জুন করোনা শনাক্তের ৬০ তম দিনে ২২ জন আক্রান্ত নিয়ে ৪০০ অতিক্রম করে শনাক্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১৮ জন। এরপর ২ দিনের মাথায় ১৩ জুন ৬২ তম দিনে ৫০০ অতিক্রম করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সবচেয়ে বেশী ১৪৫ জন শনাক্ত হয়েছেন ছাতক উপজেলায়। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৪৪, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৩৬, দিরাই উপজেলায় ১১, শাল্লা ১২, বিশ^ম্ভরপুর ১৮, তাহিরপুর ১৭ জামালগঞ্জ ৩৯, ধর্মপাশা ১৮, দোয়ারাবাজার ৪২ এবং জগন্নাথপুরে ৩৬ জন শনাক্ত হয়েছেন।
একদিনে ডাক্তার-পুলিশ সহ আক্রান্ত হন সর্বোচ্চ ৯২ জন। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৫১৮ জনে। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ জন। তিন জন ছাতক উপজেলার এবং ১ জন জামালগঞ্জ উপজেলার। এর বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১১১ জন। ১ জুন, ৫ জুন, ৬ জুন ছাতক উপজেলার তিন জন এবং ১০ জুন জামালগঞ্জ উপজেলার ১ জন মারা যান।
এদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় গত শনিবার একদিনের রেকর্ড ৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে নতুন শনাক্ত ৮৮ এবং ২য় বার পুনরায় শনাক্ত হয়েছেন ৬ জন। দুই ল্যাবে ৪৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ২০২ জনের ও ঢাকার ল্যাবে ২৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সিলেট ল্যাবে ৬১ জন ও ঢাকার ল্যাবে ৩১ জন শনাক্ত হন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় আক্রান্তের হার ১৯ শতাংশ। প্রথম ৪৯ দিনে আক্রান্ত হন ১৬৫ জন আর শেষ ১৩ দিনে আক্রান্ত হন ৩৫৩ জন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ৬১ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩৪ জন, ছাতক উপজেলার ১৯ জন, জামালগঞ্জ উপজেলার ২ জন, শাল্লা উপজেলার ১ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৩ জন এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ২ জন। ঢাকার ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলার ১৬ জন, ছাতক উপজেলার ১৩ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ জন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১ জন।
শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাম্মাদুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সুনামগঞ্জের ২০২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামসুদ্দিন আহমদ জানান, আইইডিসিআরের ল্যাবে জেলার ২৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৪৪ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৭ জন। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ৮৬ জনকে। আরোগ্য লাভ করেছেন আরও ১১ জন। এছাড়াও বিদেশ প্রত্যাগত আরও ২ জন প্রবাসী সুনামগঞ্জে এসেছেন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৬১৩ জন। করোনাভাইরাস শনাক্তে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৫ হাজার ৭০৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ২৭৫ জনের নমুনা। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৮ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন ৪৩৩ জন।
এছাড়াও মোট আইসোলেসনে আছেন ৫১৮ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৩ জন। অদ্যাবদি মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫৬৮৯ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৫৩৮০ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩০৯ জন।
এদিকে নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে করোনাভাইরাসের মহামারির কেন্দ্রস্থলগুলোয় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় হাজার হাজার সংক্রমণ রোধ হয়েছে। দ্য প্রসিডিংস অফ ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেসে (পিএনএএস) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানান, করোনাভাইরাস মহামারির বিস্তার রোধে কোনো কোনো সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বাসায় থাকার চেয়ে বেশি গুর”ত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় মাস্ক পরিধান করা। তাই জর”রী প্রয়োজনে বাইরে বের”তে হলে অবশ্যই সকলকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। ভিড় ও জনসমাগম পরিহার করতে হবে। স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতেই হবে।