আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরের শনির হাওর পাড়ের কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ফসল রক্ষার জন্য লালুর গোয়ালা বাঁধ, জালখালি ও সাহেবনগর বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ হাওরের বাঁধে এলে জনগণের রোষানলে পড়তে পারেন এ ভয়ে কর্মকর্তারা কেউই বাঁধে আসছেন না। শনিবার শনির হাওরের লালুর গোয়ালা বাঁধ এলাকাতে বাঁধের কাজ দেখতে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শনিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে রবিবার সারাদিন বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে শনির হাওরের বাঁধে গিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার জন্য। তবে শুধুমাত্র ফার্ম্মেসীর দোকান খোলা থাকবে।
শনির হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ফসল রক্ষা বাঁধ লালুর গোয়ালা ও জালখালি বাঁধ। বিগত বছরও এ দুটি বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর ফসলের ধান অকাল বন্যায় তলিয়ে যায়।
বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন শনির হাওরপাড়ের কৃষক মহিবুর রহমান, তিনি বলেন,‘ গত বছর ঋণ করে চাষাবাদ করছিলাম। অকাল বন্যায় বৈশাখের ৫ তারিখ হাওর ডুবছিল। এবার ফসল ডুবলে আমাদের আর বাড়ি থাকা সম্ভব হবে না।’
বাঁধে কর্মরত উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন বলেন,‘ আমাদের একমাত্র আয় হলো বোরো ফসল। তাই এ ফসল রক্ষা করতে না পারলে আমাদের দুর্দিনে পড়তে হবে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন,‘পাউবোর দুর্নীতির কারণেই হাওর পাড়ের কৃষকদের দুর্দশা।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহ্ম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন,‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক কর্মকর্তা ফোন দিয়ে জানিয়েছেন যত টাকা প্রয়োজন তারা দিবেন। ফসল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করা দরকার আমি তাই করব।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,‘লালুয়ার গুয়ালা ও জালখালি বাঁধটি হুমখির মুখে রয়েছে। বাঁধের ফাটল দিয়ে পানি হাওরে ঢুকছে। রবিবার শনির হাওরের বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা হবে বলে এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’


