বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে বিদ্যুতের খুঁটা বসানো যাবে না। এই অজুহাতে ঠিকাদার নতুন বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করেনি। এ কারণে সুনামগঞ্জ শহরের একাংশের ১০ টি আবাসিক এলাকার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে পুরাতন বাসস্টেশন, স্টেশনরোড, আলফাত স্কয়ার, ডিএস রোড, জেল রোড, উকিলপাড়া, আলিমাবাগ, ওয়াপদা রোড, ষোলঘর, বিলপাড়, বনানীপাড়া, আলীপাড়া ও মোহাম্মদপুর এলাকা হয়ে মাইজবাড়ী পর্যন্ত নতুন বিদ্যুৎ লাইন হবার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তেঘরিয়া অফিস থেকে ডিএস রোডের থানার সামনে পুল বসানোর পরই এই লাইনের য়কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, জাইকার ঋণ সহায়তায় জেলা শহরের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারের আওতায় সুনামগঞ্জ শহরের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্যুৎ লাইন প্রায় আড়াই বছর আগে নতুন করে করা শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় শহরের অন্য কিছু এলাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে মাইজবাড়ী পর্যন্ত নতুন লাইন করার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের শওকতজং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে পুরাতন বাসস্টেশন, স্টেশনরোড হয়ে ডিএস রোডের থানার সামনে এসেই কাজ বন্ধ করে দেয়।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানকে বুধবার এই বিদ্যুৎ লাইনের কাজ এখানে এসেই আটকা পড়লো কেন এবং কাজ হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক এই লাইন করার সময় তাঁর বাংলোর সামনে দিয়ে বিদ্যুতের খোঁটা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন। পরে ঠিকাদাররা এই অংশের কাজ বন্ধ করে অন্য এলাকায় কাজ করে। ঠিকাদারের মেয়াদকাল ছিল গত জুন মাস পর্যন্ত। যেহেতু এটি বিদেশী ঋণ সহায়তায় হচ্ছে। তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, এর মধ্যেই কাজ শেষ করে বিল ওঠাতে হয়। তারা গত জুন মাসেই সব কিছু গুটিয়ে চলে গেছে’।
শহরের ঘনবশতিপূর্ণ এলাকা জেল রোড, উকিলপাড়া, আলিমাবাগ, ওয়াপদারোড, ষোলঘর, বিলপাড়, বনানীপাড়া, আলীপাড়া, মোহাম্মদপুর ও মাইজবাড়ীর একাংশে আগের পুরাতন লাইনেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছে। এ কারণে ঐ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি বা বেশি গরম হলে লাইনে ত্রুটি দেখা দেয় এবং শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও এসব মহল্লার গ্রাহকরা অন্ধকারে থাকেন। অনেক সময় ঐ লাইনে ত্রুটি হলে পুরাতন বাসস্টেশন, স্টেশনরোড ও ডিএস রোডেও বিদ্যুৎ থাকে না।
বর্তমান জেলা প্রশাসকের আগের জেলা প্রশাসক বদলী হয়েছেন ২ বছর ৩ মাস আগে। এই সময়ে আসা নতুন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামও কী নতুন সঞ্চালন লাইন নিতে বাধা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক বাধা দেন নি। কিন্তু ঠিকাদাররা অন্য কাজে লেগে যাওয়ায় এবং সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের কাজ করা যায়নি। পুরাতন লাইন দিয়েই এই এলাকাগুলোয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছে। এ কারণে মাঝে মাঝে সমস্যাও হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
বর্তমান জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কেউই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেননি। বললে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা করতাম। আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না’।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শওকত জংয়ের পরিচালক খোকনের মুঠোফোনে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।


