স্টাফ রিপোর্টার
শহরে চোরের দৌারাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি হওয়া দোকান মালিকেরা জানিয়েছেন, চুরির সময়ের ভিডিও ফুটেজ এবং চোরের ব্যবহার করা মুঠোফোনের সিমের নম্বর দেবার পরও পুলিশ চোরদের আটক করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার রাতেও শহরের মূল সড়ক কালীবাড়ি এলাকার দৃষ্টি টেলিকমে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি শহিদুর রহমানও চোরের দৌরাত্ম বৃদ্ধির কথা জানিয়ে বলেন, করোনাকালে রাতে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় চোরের উৎপাত বেড়েছে। পুলিশের তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। কোন চোরকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো দেকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরেন শহরের কালীবাড়ি’র দৃষ্টি টেলিকমের মালিক কমল রায় বাপ্পি। সকালে এসে দোকান খুলে দেখেন উপরের টিন কাটা, ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন দামি মোবাইল সেট, মোবাইল কার্ড ও নগদ টাকাসহ কমপক্ষে ৪ লাখ টাকার মালামাল নেই।
গত ২রা জুন কালিবাড়ি রোডের লাগোয়া শহরের মুক্তারপাড়া এলাকার নিডস টেলিকমে ঠিক একইভাবে ছালের টিন কেটে চোর ঢুকে দামি মোবাইল ও গ্রামীণ ফোনের দেওয়া দুটি ট্যাবসহ এক লাখ টাকার মালামাল চুরি যায়। এই দোকানের ভেতর প্রায় দুই ঘণ্টা চোর অবস্থান করেছিল।
চুরির সময়ের ভিডিও ফুটেজ এবং চোরের ব্যবহার করা সিমের নম্বর দিয়ে থানায় মামলা করেছেন নিডস মোবাইলের মালিক বেলাল মিয়া।
বেলাল মিয়া জানান, এখনও (শুক্রবার পর্যন্ত) কোন চোর গ্রেপ্তার হয় নি।
মাস খানেক আগে একই এলাকার পুরাতন বাসস্টেশনের মুছন আলী’র দোকানে চোর ঢুকে সবকিছু নিয়ে যায়। মুছন আলী চুরি যাওয়া একটি মোবাইল সেটসহ শহরের আরপিন নগরের এক চোরকে থানায় সোপর্দ করলে তার চুরি যাওয়া মালামালের অনেক কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি।
৬ মাস আগে পুরাতন বাসস্টেশনের স্যামসাংয়ের শোরুমের দেওয়াল কেটে চোর ঢুকে অনেক মালামাল নিয়ে যায়। এখনও এই মালামাল উদ্ধার হয় নি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি শহিদুর রহমান বলেন, করোনাকালে রাতে মানুষের চলাচল কমে গেছে। কয়েকদিন হয় চোরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের টহল আরও বাড়ানো হবে। কোন চোরই বাইরে থাকবে না। সকলে সহযোগিতা পেলে চোরের উপদ্রপ থাকবে না। চুরি যাওয়া মালামাল এবং চোর আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।


