শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ফলাফল প্রকাশ হয় বেলা ১১টায়। উপজেলার ২ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন জিপিএ-৫। জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিকের এ পরীক্ষায় উপজেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪শ ৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কৃতকার্য হয়েছেন ৪শ ২০ জন। উপজেলায় গড় পাশের হার ৯২.৩৩। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ১শ ৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সকলেই কৃতকার্য হয়েছেন। তাদের পাশের হার শতভাগ। আবদুল মজিদ কলেজ থেকে ব্যবসায় উদ্যোগ ও মানবিক বিভাগ থেকে মোট ১শ ৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১শ ২১ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। তাদের পাশের হার ৮১.৭৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাঁচ পেয়েছেন। ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছেন ৯০ জন। তাদের পাশের হার ৯৪.৭৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। উপজেলা পাথারিয়া ইউনিয়নের কলেজিয়েট স্কুল সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এ কলেজ থেকে মোট ৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন ৭৮ জন। তাদের পাশের হার ৯২.৮৫ শতাংশ।
ফলাফল পেয়ে খুশি উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, পুরোটা শিক্ষাবর্ষ (২০২০-২০২১) কেটেছে অনিশ্চয়তার মাঝে। কখন পরীক্ষা হবে তা জানা ছিলো না কারো। অটোপ্রমোশন না দিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে, সময় কমিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে কলেজমুখী করা ছিলো সরকারের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সফল ভাবে সরকার সেটা করেছেন। অবশেষে ফলাফলও প্রকাশ করেছে সরকার। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ। অতিমারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে কাজটি করা মোটেও সহজ কিছু ছিলো না। ফলাফলও ভালো হয়েছে। অন্ততপক্ষে অটোপ্রমোশনের তকমাটা তো বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের গায়ে লাগলো না।
ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সুজন মিয়া বলেন, আমার এই ফলাফলের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। মা-বাবার দোয়া ও শিক্ষকদের সঠিক দিক নির্দেশনায় এ ফলাফল অর্জন করেছি। করোনা ভাইরাসের কারণে কলেজ খোলা ছিলো না। তবে আমি বাড়িতে পড়াশোনা করেছি। লেখাপড়ায় কোনো গাফিলতি করিনি। ইচ্ছা থাকলে কোন বাঁধাই সাফল্য আটকাতে পারে না। পরিশ্রম করেছি ভালো ফল এসেছে। আমার এই রিজাল্টে আমি খুব খুশি।
আবদুল মজিদ কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক নিহার রঞ্জন তালুকদার ও পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. শরাফত উল্যাহ্ বলেন, এমন অতিমারির সময় পরীক্ষা যে হয়েছে সেটাই বড় কথা। ছেলে-মেয়েরা যে কলেজে ফিরেছে তা-ই বা কম কিসের? তাছাড়া আমাদের উপজেলায় নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড় রিজাল্ট ৯২ শতাংশের উপরে। নতুন হিসেবে আমরা ভালো করেছি। আমাদের ফলাফলে আমরা খুশি।
পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রমিজ উদ্দিন বলেন, প্রথমে সরকারকে ধন্যবাদ। অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ করার জন্য। বিষয় ও সময় কমিয়েও পরীক্ষা নেওয়াটা ছিলো বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কলেজ থেকে সকল শিক্ষার্থী পাশ করায় আমি খুব খুশি। দু’চারটা জিপিএ-৫ পেলে আরো ভালো লাগতো। তবে আগামীতে পেয়ে যাবো ইনশাল্লাহ্। আমাদের এমন ফলাফলে আমার কলেজের সকল শিক্ষকদেরকে ধন্যবাদ জানাই। মূলত তাঁদের পরিশ্রমেই আমরা এমন ভালো রিজাল্ট করেছি। আগামী বছরগুলোতেও আমাদের এ ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ্।


