শাল্লায় হাঁসের মড়ক- প্রাণি সম্পদ অফিস তালাবদ্ধ থাকায় পরামর্শ পাচ্ছেন না খামারীরা

পি সি দাশ পীযূষ, শাল্লা
শাল্লায় প্রতিটি গ্রামের পাতি হাঁসের ফার্মে মড়ক দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলার সর্বত্রই হাঁস মরার এই দৃশ্য দেখে দিশেহারা হয়ে পরেছেন ফার্মের মালিকরা। অনেকেই তাদের হাঁসের চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে অফিসের দরজা বন্ধ ও কাউকে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাড়ি এসে হাঁস মরার দৃশ্য দেখছেন।
অভিযোগ উঠেছে বিনা চিকিৎসায় প্রতিদিনই হাজার হাজার হাঁস মরে যাচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে কোন ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না খামার মালিকরা।
বেশ কয়েকজন হাঁসের ফার্মের মালিক হাঁসের মৃত্যুর জন্য প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের লোকজনকেই দায়ী করেন। কারণ হিসাবে তারা জানান, ঔষধের জন্য প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে কাউকেই খোঁজে পান নি তারা।
খামার মালিকরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে খামারের সব হাঁস মরে সর্বস্ব হারিয়েছেন আনন্দপুর গ্রামের বকুল দাস, তার ৭৩০টি হাঁস মরে গেছে। এছাড়াও হাঁস মরেছে প্রজেশ দাসের ৬৫০টি, কৃষ্ণ চক্রবর্ত্তীর ২৬০ টি ,বিকাশ দাসের ১৯০টি ,হবিবপুর গ্রামের রেবতী দাসের ৭৮০ টি ,নিয়ামতপুরের সাধন দাসের ৫৩০টি , আঙ্গারুয়া গ্রামের কানু দাসের ৫৬০ টি। এছাড়া এলাকায় আরো অনেকের হাঁস মরার খবর পাওয়া যায়।
আনন্দপুর গ্রামের হাওর সপ্ন সিআরসির পরিচালক বিকাশ চক্রবর্ত্তী বলেন, এই এলাকায় হঠাৎ হাঁসের মরকি (মড়ক) দেখা দেওয়ার সাথে সাথে তিনিসহ বেশ কয়েকজন ফার্ম মালিক উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে যায়। সেখানে গিয়ে অফিসের দরজা বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। আশেপাশের লোকজনকে পশু ডাক্তারের কোথায় আছে জানতে চাইলে উত্তরে তারা জানিয়েছেন, এই অফিসের (উপজেলা প্রাণী সম্পদ) দরজা সব সময় বন্ধই তাকে। ডাক্তার আছে কি নাই তারা জানেন না।
বিকাশ চক্রবর্ত্তী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,‘ ডাক্তার থাকলে হাঁসগুলোকে বাচানোর চেষ্টা করা  যেত। এ বিপর্য়য়ের  জন্য তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে লোকজনকেই দোষারোপ করেন।
সোমবার সরেজমিনে সকাল ১১ টায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় দরজা বন্ধ। অফিসের ভেতর কেউ নেই। এমনকি আশে পাশেও কেউ নেই। কার্যালয়ের উপরে সাইবোর্ডে পুরাতন ‘পশু সম্পদ অধিদপ্তর’ লিখা রয়েছে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নামটুকু পর্যন্ত লেখা হয়নি এখন পর্যন্ত ।
এসময় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের সজীব নামের এক যুবকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,‘এই অফিস একদিনও খুলতে দেখি না। ডাক্তার আছে কিনা তাও জানি না সব সময় গেইটে তালা লাগানো থাকে। মানুষের মুখে শুনি অনেক ঔষধ আসে সেগুলো কোথায় যায় তাও জানি না।  মানুষ অনেক দূর থেকে ঔষধের জন্য এসে খালি হতে ফিরে যায়।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘শাল্লা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। একজন স্টাফ রয়েছে সে শাল্লা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া এখানে কোন চিকিৎসক ছিলেন না। গত ১ তারিখ থেকে একজন যোগদান করেছেন। সোমবার তিনি জেলা সদরে অফিসের কাছে এসেছিলেন। আজ থেকে সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক পাবেন এলাকাবাসী। হাজার হাজার হাঁস মরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি তাদের সহায়তার করতাম।’