এলাকায় শোকের মাতম- সিলেট মহিলা কলেজের হোস্টেল থেকে জগন্নাথপুরের শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের দুবাই প্রবাসী বশর মিয়ার মেয়ে  সিলেট মহিলা কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী সুবি বেগম এর লাশ গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ময়না তদন্ত শেষে গ্রামে এসে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণা ঘটে। স্বজনদের পাশাপাশি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তাঁর স্কুল ও কলেজের সহপাটিরা। তাদের কান্নায় কেঁদেছেন এলাকাবাসীও। কেউ হিসাব মিলাতে পারছেন না কেন আত্মহত্যা করল মেধাবী এই মেয়েটি। স্বজন থেকে শুরু করে শিক্ষাথী, সহপাঠি, অভিভাবক ও শিক্ষক সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েছেন।  তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় সুবি সফাত উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এইচএসসি পাশের পর সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে অর্থনীতি (সম্মান) বিভাগে ভর্তি হয়। ভর্তির পর কলেজের হোস্টেলে সিট পায় সে। হোস্টেলের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার ২১০ নম্বর কক্ষে থাকত সুবি। এই কক্ষে সুবির আরো ৪ জন সহপাঠি থাকত। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে রুমের অন্যান্য সহপাঠিরা বাড়ি চলে গেলে সে একাই রুমে থাকত।  সুবির ঘনিষ্ট কয়েকজন বান্ধবী জানান, গত কয়েকদিন থেকে প্রায়ই বিমর্ষ দেখা যেত তাকে। কারো সঙ্গেই ঠিক মতো কথা বলতো না। অনেকটা নিজের মধ্যে ডুবে থাকত সে। এর আগে সে সবার সাথে মিশে হাসিখুশি আড্ডায়  
মেতে থাকত। রবিবার সারা দিন সে দরজা খুলেনি। ইফতারির সময়ও তাকে দেখতে পাননি অন্যকক্ষের সহপাঠিরা। যে কারণে ইফতার শেষে অনেকে খোঁজ করেন। প্রথমে অনেকেই মনে করেন সুবি হয়ত বাইরে ইফতার করছে। কিন্তু রুমের সামনে গিয়ে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে প্রশ্ন জাগে। সবাই তখন দরজা ধরে ডাকতে থাকেন।
কিন্তু সুবির কোন সাড়া নেই। রুমে আলো নেই। এতে প্রশ্নে উদয় হয়। একজন ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে যতটুকু চেষ্টা প্রয়োজন সবই করেন তারা। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ নেই। ততক্ষণে সুবির দরজার সামনে অপেক্ষমাণ সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ।
সহপাঠি ফরজানা, তাহমিনা রুমের জানালা দিয়ে দেখতে পায় সুবির ঝুলন্ত লাশ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উঠেন সকলেই। খবর দেয়া হয় কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপার সহকারি অধ্যাপক জামালুর রহমানকে। অধ্যক্ষের নির্দেশে ডাকা হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে উদ্ধার করে সুবিকে। কিন্তু ততক্ষণে নিজের সময়কে নিজেই স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছে সে না ফেরার দেশে। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খবর পেয়ে স্বজনরাও ছুটে যান সেখানে। সোমবার ময়না তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় গ্রামে নিয়ে আসা হয় লাশ। শেষ দেখা দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী ও তার দীর্ঘদিনের স্কুল ও কলেজের বান্ধবীরা। সুবির প্রতিবেশী চাচা শ্রীধরপাশা গ্রামের আব্দুল মালিক জানান, বিকেলে জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। অকালে ঝরে যাওয়া এই মেধাবী তরুণীর মৃত্যুর হিসাব কেউ মিলাতে পারছেন না। জগন্নাথপুর শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এম এ মতিন বলেন, শাহজালাল কলেজ থেকে এইচএসপি পাশ করে সিলেট মহিলা কলেজে গিয়ে ভর্তি হয় মেয়েটি। কলেজে পড়ালেখার সময় অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সুপরিচিত ছিল সে।