শাল্লা মাধ্যমিক অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ও জাতীয় দৈনিক সমকাল এর সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। এর আগে গত ১০ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নীলিমা চন্দকে এই বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা পরিচয় না দেবার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেয় কতৃর্পক্ষ। সোমবার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়।
প্রফেসর নীলিমা চন্দ এই বিষয়ে তদন্তের জন্য ২১ মার্চ সোমবার শাল্লায় যাবেন জানিয়ে গেল ১৫ মাচ মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা। পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, সিলেট অঞ্চল ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি পাঠান। শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের মেইলে চিঠি পাঠিয়ে মুঠোফোনেও জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে বলে জানান তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ।
প্রসঙ্গত, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে অফিস না করেই বেতন নিচ্ছেন শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান। নোয়াখালি জেলার বাসিন্দা এই কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় আলোচনার পর ২০২০ সালের চার মার্চ চিঠি দিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরপর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপ—পরিচালক, মহাপরিচালকে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও কোন লাভ হয় নি। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু হয় নি। উল্টো জেলা শিক্ষা অফিসারকে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা (আজিজুর রহমান)। এই বিষয়েও থানায় জিডি হয়েছিল।
অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ বললেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমানের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা বিষয়ে তদন্তের জন্য শাল্লা উপজেলায় সোমবার সরেজমিনে গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছি আমরা। স্থানীয় লোকজনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যা পেয়েছি, তদন্ত রিপোর্টে সেটি উল্লেখ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রবিবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এই প্রসঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ডিজারসন বা বিভাগীয়’ ব্যবস্থা নেবার প্রয়োজন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রবিবারও শাল্লা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শাল্লার আটগাঁও হাফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট উৎকোচ দাবির লিখিত অভিযোগ হয়েছে। হাফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যোৎ কুমার দাস লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, তার বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া নিয়োগের এমপিওভুক্তির আবেদনে সুপারিশ করতে আজিজুর রহমান ঢাকার একটি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলেছেন, টাকা না দেওয়ায় তিনি ফাইল দুটি ফেরৎ পাঠিয়ে দেন।
আজিজুর রহমান সোমবার বিকালে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, হাফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। তিনি মিথ্যে অভিযোগ করেছেন। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের নির্দেশে সোমবার তদন্তে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যাডামের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।