শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বাবুল দেবের উপর একটি সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবুল দেব কলেজ গেটের সামনে একটি লাইব্রেরিতে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। এসময় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী তাঁর উপর অতর্কিতে আক্রমণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কুতুব উদ্দিনের মালিকানাধীন আনসার মার্কেটেও হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। প্রকাশ্যে এক শিক্ষকের উপর হামলা ও আরেক শিক্ষকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানোর ঘটনাটি উদ্বেগজনক।
শিক্ষকের উপর কেন এই হামলা, তার বিস্তারিত কোনো বিবরণ সংবাদে পাওয়া যায়নি। তবে কিছু সন্ত্রাসী কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা ও তাদের কাজে বাধা দেয়া শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দেয়ার একটি তথ্য সংবাদে উঠে এসেছে। হামলাকারীদের কোনো পরিচয় সংবাদে দেয়া হয়নি। এটি কি ভয়ের কারণে তা আমাদের জানা নেই। তবে এখন প্রভাবশালী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের এড়িয়ে চলার একটি আত্মঘাতী সংস্কৃতি আমাদের সমাজে গড়ে উঠেছে। এটি তারও প্রতিফলন হতে পারে। বিচারহীনতা ব অপরাধী-লালন করার মতো ভয়ংকর প্রবণতার প্রভাব এটি। তবে এ কথা সত্য শিক্ষকের উপর হামলা পরিচালনাকারীরা এলাকায় অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। বরং ভদ্রজনের চাইতে গু-া মাস্তানদেরই পরিচিতি এখন বেশি। এদের স্থানীয় লোকজন যেমন চিনেন তেমনি শিক্ষকরাও নিশ্চয়ই চিনেন। সন্ত্রাসীদের পরিচয় উন্মোচন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দিকে প্রহৃত শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে অগ্রসর হতে হবে। নতুবা এই সন্ত্রাসীচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং যখন তখন আরও ভয়ানক ঘটনা ঘটানোর সাহস সঞ্চয় করতে সক্ষম হবে।
ছাতক সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা এই কথায় আস্থা রাখতে চাই। শিক্ষকরা হলেন জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেÑ নীতিবান শিক্ষকরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেনই। এটাই স্বাভাবিক। এর জের ধরে তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনা একটি অপরাধমূলক কর্মকা-। এই ধরনের অপরাধ শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পাহাড় সমান বাধা। প্রশাসনের অবশ্যই দায়িত্ব এর সঠিক বিচার করা। একজন শিক্ষক শিক্ষা দান করতে এসে এই সমাজে কিছু বখাটের দ্বারা লাঞ্ছিত হবেন এটি প্রত্যাশিত নয়। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে নিরীহ শিক্ষক সমাজ মাঝেমধ্যেই এমন অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে আমরা সংবাদপত্র সূত্রে জানতে পারি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি অতিশয় গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করি। কারণ এর সাথে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষকদের নিরুদ্বিগ্ন পরিবেশে শিক্ষা দানের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। এই ঘটনার বিচার না হলে কোনো শিক্ষক সাহস নিয়ে অন্যায় কর্মকা-ের প্রতিবাদ করতে পারবেন না। ফলত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনাম হারাবে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী নাগরিক সমাজ, সাধারণ মানুষ, সাধারণ ছাত্র সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে নিরাপোষ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্র নামধারী অথবা বহিরাগত সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন কেউই আইনের উর্দ্ধে নয়। বরং কেউ যদি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেন তাহলে প্রশ্রয়দানকারীদের বিরুদ্ধেও প্রবল নাগরিক প্রতিবাদ উত্থিত হওয়া জরুরি। আমরা শিক্ষকের উপর এই নেক্কারজনক হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরের ঘটনার উপযুক্ত বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।