শিক্ষকের ভয়ে স্কুল ছেড়েছে ছাত্রী

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া নামের এক শিক্ষকের ভয়ে বিদ্যালয় ছেড়েছে এক ছাত্রী। সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া উপজেলার ভাটকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চললেও ওই ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সাহস পাচ্ছে না।
ছাত্রীর পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল এ উপজেলার      
সবক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যায়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া হলে প্রবেশ করে ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ সময় সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদির সেই হলে কর্তব্যরত ছিলেন। ছাত্রীটি পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরে তার ভাবিকে বিষয়টি জানায়। পরে ছাত্রীর মা এ বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে ছাত্রীটি শিক্ষকের ভয়ে আর পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিক্ষকের পক্ষ থেকে ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও ছাত্রীর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ারও হুকমি দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছাত্রীর পরিবার ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি জানার পর সাথে সাথেই ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ে ওই ছাত্রীর অনুপস্থিত থাকার বিষয়টির সত্যতা পান। পরে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক, ছাত্রী ও ছাত্রীর মায়ের সাথে কথা বলেন।
অশোভন আচরণের বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে অভিযুক্ত শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে (ছাত্রী) এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল। এদিক ওদিক না তাকানোর জন্য তাকে বলা হলে সে কথা মানেনি। তাই তার পিঠে থাপ্পড় দিয়েছি। এ সময় সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদির উপস্থিত ছিলেন।’
তবে সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমি ওই হলে থাকলেও ছাত্রীকে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে কিনা আমি জানিনা।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি শোনার সাথে সাথেই বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে আমি ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে যাই। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর পিটে থাপ্পড় দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। ওই ছাত্রী ও তার মায়ের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, থাপ্পড় নয় বরং আপত্তিজনক ব্যবহার করা হয়েছে ছাত্রীর সাথে। সেখানে প্রতক্ষ্যদর্শী একজন শিক্ষার্থীও তাদের কথার সাথে সায় দেয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।’