শিক্ষক সংকটে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়- নেই ডিজিটাল ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার

লিপসন আহমদ
শিক্ষক সংকটে ভুগছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়। এজন্য প্রায় প্রতিদিন সব শ্রেণির ক্লাস নেয়াও সম্ভব হয় না। নেই ডিজিটাল ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার। একাডেমিক সাইট দেখার জন্য ২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী না থাকায় বিদ্যালয়ের নানা কর্মকান্ডে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
জেলা সদরের সরকারি এই বিদ্যালয় শিক্ষকসহ নানা সংকটে থাকায় মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিদ্যালয়ের এসব নানামুখী সমস্যায় আগামীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ।  
জানা যায়, সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা ৫২ জন। কিন্তু কর্মরত আছেন ৩৬ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক সাইট দেখার জন্য ২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি জুবিলী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারি শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে বিষয় ভিত্তিক বাংলায় ৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ১ জন বেশী রয়েছেন এবং গণিতে ৬ জন থাকার কথা থাকলে ২ জন শিক্ষক বেশী রয়েছেন। তবে অন্য সকল বিষয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে।
জানা যায়, ইংরেজীতে ৮ জন শিক্ষকের স্থালে রয়েছেন ৫জন, সামাজিক বিজ্ঞানে ৪ জনের স্থলে কর্মরত আছেন ২জন, ধর্ম শিক্ষায় ৪ জন শিক্ষকের স্থলে আছেন ২জন, ভৌত বিজ্ঞানে ৪ শিক্ষকের স্থলে ৩ জন, জীববিজ্ঞানে ৪ জনের স্থলে আছেন ১জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪ জন       
শিক্ষকের স্থলে আছেন ২জন, শারীরিক শিক্ষায় ২ জন শিক্ষক পদের মধ্যে ১ টি পদ শূন্য। এছাড়াও ভূগোলে ২, চারুকলা ২ এবং কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ১ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও পদগুলো শূন্য রয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষক সংকটই নয় রয়েছে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকট। ৩য় শ্রেণীর ২ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ১জন এবং ৪র্থ শ্রেণীর ৫ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ২জন।
বিদ্যালয়ে ১টি ল্যাব থাকলেও সেটি রয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারের অভাব রয়েছে বিদ্যালয়ের এসব সংকট ও সমস্যা দ্রুত সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  
সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, রিয়াদ আহমদ, হাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক নেই। তাই প্রায়ই আমাদের অনেক ক্লাস হয় না। এইভাবে চলতে থাকলে এসএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারবো না আমরা।’
সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী দিপন চন্দ্র পাল জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি মাত্র ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে কিন্তু সেটা পরিত্যক্ত অকেজো অবস্থায় তালা মারা রয়েছে। বিদ্যালয়ে একটি বিজ্ঞানাগার নেই। তাই আমাদের দাবি বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাতে ডিজিটাল ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার দুইটি দ্রুত ঠিক করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক মোল্লা বলেন, আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা মোট ১৫৭৬ জন। টিকিউআই টু প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের ল্যাবের ব্যবস্থা করেছি আর বিজ্ঞানাগারের কাজ চলছে, আশা করি সব সম্যসার সমধান হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমারা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে এই বিষয়ে জানাব এবং আশা করি দ্রত এই স্কুলের শিক্ষক সমস্যার সমাধান হবে।