শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করলো ‘হাওরবাংলা’

আসাদ মনি
সুনামগঞ্জে লকডাউনে বিপাকে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসামগ্রী দিয়েছে সামাজিক সংগঠন হাওরবাংলা। নিজস্ব অর্থায়নেই এসব সামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি।
রোববার সুনামগঞ্জ ধর্মপাশার উপজেলার বংশীকুন্ডা (দক্ষিণ) ইউনিয়নের নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় এই বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ৬ দিস্তা খাতা ও ৬ টি করে কলম বিতরণ করা হয়।
এর আগে পহেলা এপ্রিল এলাকার মমিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কেন্দ্রে সহযোগিতা করেন তারা। ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে অনলাইনে নিবন্ধন করে দেন সংগঠনের কর্মীরা। সঙ্গে টিকাদান কেন্দ্রে আসা ব্যক্তিদের মাস্ক বিতরণ করেছে।
জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ১৫ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে হাওর বাংলা সামাজিক সংগঠনটি। সংগঠনের ১৪ জন সদস্য বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয় এবং একজন সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতি মাসে ২০ টাকা করে চাঁদা তুলে ফান্ড গঠন করেছেন তারা। এই ফান্ড থেকেই বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেন তারা। তবে মাস্ক, শিক্ষা সহায়তা দিয়েও তাদের ফান্ডে আরও ১ হাজার টাকা জমা রয়েছে।
অভিভাবক কৃষ্ণ গোপাল সরকার বললেন, আমি কৃষি কাজ করি। ফসলের উপর নির্ভর করে পরিবার চলে আমার। এই সময়ে হাত একদম ফাঁকা। নিজের ছেলেকে বই খাতা কিনে দেবো সে ক্ষমতা নেই। হাওরবাংলা সামাজিক সংগঠন থেকে আমার ছেলেকে শিক্ষাসামগ্রী দিয়েছে। এগুলো পেয়ে আমার ছেলেও খুশি হয়েছে। তার পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরূল আলম বলেন, হাওরবাংলা সামাজিক সংগঠন যারা করেছে তারা সবাই আমার বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আমরা তাদেরকে গড়ে তুলেছি দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়ে। এজন্য দেশের সংকটকালে তারা মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে। তাদের শিক্ষক হিসেবে আমরাও গর্বিত।
হাওর বাংলা সামাজিক সংগঠনের সভাপতি প্রান্ত সরকার বলেন, বৈশিক মহামারি করোনার প্রভাবে অনেকে কাজ হারিয়েছে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে শিল্প কলকারখানার শ্রমিকরাও চাকরী থেকে ছাটাই হয়ে গ্রামে ফিরে এসেছে। চেষ্টা করছেন এলাকায় কিছু করার। কিন্তু আবারও লকডাউনের খবরে অনেকে ভেঙে পড়েছেন। তারা যেনো হতাশ না হয় সেজন্য আমরা তাদের অল্প সহায়তা করেছি। এরআগেও আমরা ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধন করে দিয়েছি বিনামূল্যে। মাস্কও বিতরণ করেছি। আমাদের এরকম সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা. এমরানুল হক বলেন, আমরা সেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করি। পহেলা এপ্রিল হাওর বাংলা সামাজিক সংগঠন থেকে আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। তাদের সহায়তায় সেদিন ৫৪২ জনকে ভ্যাকসিন দিতে পেরেছিলাম। সংগঠনের সবাই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের এই কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।