ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ইজিবাইক চালক রাজন মিয়া বছরখানেক আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন নাফসা আক্তারকে। তাদের তিন মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। যার নাম তোবা। কিন্তু দাম্পত্য কলহের জেরে নাফসা তোবাকে ফেলে চলে যান বাবার বাড়ি। এতে বিপাকে পড়েন রাজন। রাজন তোবাকে লালন পালন করতে তিনি হিমশিম খেতে থাকেন। এভাবে কেটে যায় ৫ দিন। কিন্তু নাফসা ফিরে না আসায় অবশেষে রাজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দারস্থ হন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের চেষ্টায় তোবা তার মাকে ফিরে পায়। এমনটি ঘটেছে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সলপ গ্রামে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তোবাকে তার মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়।
একই ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের আজিনুর মিয়ার ছেলে রাজন শনিবার তার শিশু কন্যাকে নিয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদে যান এবং বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকাকে জানান, তার স্ত্রী গত সোমবার থেকে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। ফলে তোবাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তখন ইউপি চেয়ারম্যান নাফসার বাবার বাড়ির (সলপ) লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নাফসার বাবার বাড়ির লোকজন নাফসার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি। তখন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ধর্মপাশা থানা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে পুলিশসহ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছান। সেখান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশ শিশুটিকে নিয়ে নাফসার বাবার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা নাফসাকে পায়নি। বিষয়টি নিয়ে নাফসার পরিবারে লোকজনকে চাপ প্রয়োগ করা হলে নাফসাকে সামনে আনা হয়। পরক্ষণেই শিশুটি তোবাকে নাফসার কোলে তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘নাফসা জানিয়েছে তার স্বামী তাকে মারধর করে। তাই তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার রাজন জানিয়েছে তার স্ত্রী তার কথা শুনেনা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হলে স্ত্রী স্বামীকে মারধর করে।’
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া কারণে একটি নিষ্পাপ শিশু কয়েকদিন ধরে অমানবিক কষ্টে ছিল। তাই শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
- প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে স্থান পেয়েছে ছাতকের মানিক মিয়ার আঁকা ছবি/পুরস্কার পাচ্ছেন লক্ষ টাকা
- আব্দুজ জহুর সেতুর উপর অবৈধ স্ট্যান্ড/ জিম্মি যাত্রীরা, ঘটছে মারামারি


