শূন্যতার সৃষ্টি হলো

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট আইনজীবী, লেখক, গবেষক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু এর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও শোকের প্রকাশ ঘটিয়েছেন বন্ধু ও অনুরাগীরা। বুধবার দুপুরে বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু’র মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরই তার ছবিতে ভরে ওঠে ফেসবুকের নিউজফিড। দেশ এবং বিদেশ থেকে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু’র মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সিনিয়র আইনজীবী, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর উপদেষ্টা সম্পাদক স্বপন কুমার দেব লিখেছেন, অবিশ্বাস্য। আমি নির্বাক। বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু না ফেরার দেশে চলে গেছেন। একাধারে ছোট ভাই ও বন্ধু। এ ভাবে চলে যাওয়া যে মেনে নিতে পারছি না। ‘সোনালী সকাল’ এর মধ‍্যমনির অকাল বিদায়। সংগঠনের সদস‍্য হিসাবে বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র প্রভাষক ড. মুহাম্মদ জে এ সিদ্দিকী তার ফেইসবুকে লিখেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এই ক’দিন আগেও আপনার সাথে কথা হলো- আপনি আমাকে বললেন সুনামগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করতে চেষ্টা করতে। বিদেশে আমাদের যারা আছেন তাঁদেরকে নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে এটিকে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর বেইজটা তৈরী করে দিতে।

আপনাকে প্রথম দেখায় আমি মামা বলে সম্বোধন করেছিলাম। আপনি মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন করেছিলেন যুদ্ধ করে। দেশ আমার মা। সেই হিসাবে আপনার মতো সকল মুক্তিযোদ্ধা আমার মামা। আর তখন থেকেই সুনামগঞ্জ গেলেই আপনি আমাকে পরম ভাগ্নে স্নেহে বেঁধে রাখতেন। কত গল্প আপনার সাথে! আরও কত গল্প করার কথা ছিল। কিন্তু মামা, আপনি এত দ্রুত চলে যাবেন স্বপ্নেও ভাবিনি।

জগৎজ্যোতি পাঠাগারে আমি দুইবার গিয়েছি। দুইবারেই আপনি আমার সম্বন্ধে উপস্থিত সুধীজনদের কিছু কথা বলেছিলেন- আপনি হয়তো জানেনই না যে সে কথাগুলো আমাকে কিভাবে আলোড়িত করছে এবং করে যাবে সারা জীবন।

মামা, সুনামগঞ্জে আপনাকে খুব মিস করবো। জগৎজ্যোতি পাঠাগারে আপনাকে খুব মিস করবো। আপনার মতো করে সুনামগঞ্জে খুব কম মানুষ আমাকে স্নেহ করবে। আপনার প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। আল্লাহ আপনাকে বেহেস্তর সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিন।

সুনামগঞ্জ সিলেট সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার লিখেছেন, বিদায় সুনামগঞ্জের অতি আপনজন। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক। বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রিয় খসরু ভাই। আমরা গভীর শোকাহত।

কবি সুখেন্দু সেন লিখেছেন, এ কোন গ্রহণের কাল। এ কেমন বিদায় হায়! প্রিয় মানুষেরা কী এমনি করে চলে যায়। খসরু ভাই। অতি আপনজন, একজন শ্রদ্ধার, ভালোবাসার মানুষ। শৈশব থেকে দেখা। স্নেহ মমতায় আমাদের পরম আশ্রয়, অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরতা। সেই মানুষটি চলে গেলেন আজ বিকাল ৩ টায়। মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিলো ঘন্টাদেড়েক আগেও। খোঁজ নিয়েছিলাম উনার শারীরিক অবস্থার। সোয়া তিনটা নাগাদ পেলাম শেষ খবরটি।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিকতা, সাহিত্যে, ছাত্র রাজনীতিতে যার ছিলো সদর্প পদচারণা, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ভাই আপনার অন্তিম যাত্রায় আমার অন্তরতম শ্রদ্ধা।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর সহকারী সম্পাদক অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন লিখেছেন, জীবন টাই সাদাকালো। কখন যে জীবনের হিসাব থেমে যাবে কেউ বলতে পারবে না। ৩ দিন আগেই যিনি আমার ডান পাশে হেঁটে ধীর ভাবে শহীদ মিনারে গেলেন আজ তিনিই ছবি হয়ে গেলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা টিনএজ পেরোনো সেই যোদ্ধা আস্তে আস্তে হয়ে উঠলেন এ শহরের মহিরুহ। অনেকেই তার ছায়া তলে ছিল। চলার পথে অনেকের ভরসা স্থল ছিলেন তিনি। অনেক আন্দোলনের অগ্রনায়ক আজ থেমে গেলেন চিরতরে। তবুও থেমে যাওয়া জীবন থেকে আমরা শিক্ষা নেবো। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।

বিটিভি’র সিলেট প্রতিনিধি মুক্তাদির আহমদ মুক্তা লিখেছেন, মার্জিত মানুষ, আজীবন আদর্শিক যোদ্ধা খসরু ভাইর চলে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সামাজিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জবাসী হারালো একজন আপাদমস্তক প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী, সাহসী মানুষকে। মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

লেখক ও সাংবাদিক শামস শামীম তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, স্তব্দ। নির্বাক। অবিশ্বাস্য। মনটা কিছুতেই মানতে পারছেনা। আমাদের অবিভাবক একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু আর নেই। উনার আত্মার শান্তি কামনা করি।

চ্যানেল ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এ. আর জুয়েল লিখেছেন, আমার সংবাদের বিষয় হাওর, বাঁধ, ফসল, মুক্তিযুদ্ধ, গবেষক কিংবা জেলার সমস্যা ও সমাধানে সুশীল বক্তা হিসেবে বার বার সাক্ষাৎকার নিতে ছুটে যেতাম উনার কাছে। কখনই বিরক্ত হননি, কতবার যে চ্যানেল ২৪ এর কতো নিউজে উনাকে লাইভে নিয়েছি তার হিসেব নেই। সুনামগঞ্জবাসীর নানা সমস্যায় কথা বলতেন হাওরের কৃষকের জন্য, হাওরে মানুষের জন্য, জেলার নানা সমস্যায় এগিয়ে আসতেন সামনের সারিতে, ছিলেন শহরের একজন অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, আইনজীবী হিসেবেও ছিলো সুনাম। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দ্বায়িত্বও পালন করেছেন।

গতকালও রাতে চাচার অসুস্থতার খবর শুনে গিয়েছিলাম বাসায় হাসিমুখে কথা বলেছেন, অসুস্থতাকে মোটেই পাত্তা দেননি, রনাঙ্গনের বীরেরা হয়তো এমনি সাহসি। শেষ যখন দেখে আসলাম একদম সুস্থ একজন হাসিমুখেইর মানুষকে দেখে আসলাম। আপনি ওপারে ভালো থাকুন। আপনার জন্য পুরো হাওরবাসীর দোয়া রইলো চাচা। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক।

অমিত কান্তি দেব লিখেছেন, সুনামগঞ্জের আকাশ থেকে ঝড়ে গেল এক উজ্জ্বল তারা। বিনম্র শ্রদ্ধায় গভীর শোক।

বিকাশ চৌধুরী লিখেছেন, গভীর শোক। কিছু বলার মত শক্তি নেই। আমি নির্বাক ও স্তব্ধ। তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

ফাইজুর রহমান লিখেছেন, উনার সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা বইটি পড়ে ইচ্ছে ছিল একদিন দেখা করার। একদিন ফোনও দিয়েছিলাম। বলেছিলেন চলে এসো যে কোনো দিন। কিন্তু তিনি চলে গেলেন! আহ। (আল্লাহ উনার প্রতি রহম করুন)।

মো. মনির উদ্দিন লিখেছেন, বিদায় শ্রদ্ধেয় প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ভাই! আপনার শূন্যতা পূরণ হবার নয়!